Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice মঙ্গল, মে 19, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » আসন্ন বাজেট কি স্বপ্ন দেখাচ্ছে—নাকি বাস্তব চাপ লুকাচ্ছে?
    অর্থনীতি

    আসন্ন বাজেট কি স্বপ্ন দেখাচ্ছে—নাকি বাস্তব চাপ লুকাচ্ছে?

    নিউজ ডেস্কমে 19, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কমে যাওয়া মানুষের ক্রয়ক্ষমতা, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং রাজস্ব ঘাটতির চাপে আসছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। এমন বাস্তবতায় সরকার একদিকে স্বাস্থ্য খাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর ছাড়ের পরিকল্পনা করছে, অন্যদিকে রাজস্ব বাড়াতে সিগারেট ও অ্যালকোহলজাত পণ্যে কর বৃদ্ধির উদ্যোগ নিচ্ছে। একই সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন বাজেট। ফলে নতুন বাজেট সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে, নাকি নতুন চাপ তৈরি করবে—তা নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংশ্লিষ্ট খাতের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এবারের বাজেটে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হার্টের রিং বা কার্ডিয়াক স্টেন্ট, ডায়ালাইসিস সরঞ্জাম এবং ওষুধ শিল্পের কাঁচামালের ওপর কর কমানো কিংবা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব পণ্যে কর কমানো হলে হৃদরোগ ও কিডনি রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কিছুটা কমতে পারে। একই সঙ্গে ওষুধ শিল্পও উৎপাদন খরচ কমানোর সুযোগ পাবে। অন্যদিকে রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে তামাক ও মদের ওপর কর বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। এ খাত থেকে অতিরিক্ত প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার এক ধরনের দ্বৈত চাপে রয়েছে। একদিকে রাজস্ব আয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, অন্যদিকে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার চ্যালেঞ্জও বড় হয়ে উঠেছে। ফলে এবারের বাজেট অনেকটাই স্বস্তি ও বাড়তি চাপের মিশ্র বাস্তবতা হিসেবে সামনে আসতে পারে। স্বাস্থ্য খাতে কর ছাড় সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক বার্তা হতে পারে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ না থাকলে এবং নতুন করের প্রভাব বাজারে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

    চিকিৎসা ব্যয়ে চাপে সাধারণ মানুষ:

    বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যয় এখন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পরিণত হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলেও রোগীদের ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অস্ত্রোপচার এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের পেছনে বিপুল অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। ফলে অনেক পরিবার চিকিৎসা ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

    ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল হেলথ অ্যাকাউন্টস’-এর তথ্য বলছে, দেশে মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭০ শতাংশেরও বেশি সরাসরি মানুষের নিজস্ব অর্থ থেকে ব্যয় হয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এই হার অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে বিবেচিত হয়।

    স্বাস্থ্য-অর্থনীতিবিদদের মতে, চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ প্রতিবছর অসংখ্য পরিবারকে দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে ঠেলে দিচ্ছে। অনেকেই চিকিৎসার খরচ জোগাতে জমিজমা বিক্রি করছেন, ঋণ নিচ্ছেন কিংবা দীর্ঘদিনের সঞ্চয় হারিয়ে ফেলছেন। এতে শুধু আর্থিক সংকটই নয়, সামাজিক অনিশ্চয়তাও বাড়ছে।

    এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য খাতে কর ছাড়ের সম্ভাব্য উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের কাঁচামালের ওপর কর কমানো হলে রোগীদের ব্যয় কিছুটা হলেও কমতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপও আংশিকভাবে লাঘব হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

    হার্টের রিংয়ে ভ্যাট ছাড়ের ভাবনা:

    দেশে হৃদরোগের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে আগামী বাজেটে করোনারি স্টেন্ট বা হার্টের রিংয়ের ওপর থাকা ভ্যাট প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করছে সরকার। বর্তমানে এ পণ্যের সরবরাহ পর্যায়ে ১০ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর রয়েছে, যার পুরো চাপ শেষ পর্যন্ত রোগীকেই বহন করতে হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন বাজেটে এই ভ্যাট তুলে দেওয়ার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে হৃদরোগীদের চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    স্বাস্থ্যসেবা খাতের উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, বর্তমানে মানভেদে একটি হার্টের রিংয়ের দাম ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। ভ্যাট প্রত্যাহার করা হলে উচ্চমূল্যের স্টেন্টের ক্ষেত্রে প্রায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম কমে আসতে পারে। এতে রোগীদের আর্থিক চাপ অনেকটাই কমবে। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর অন্তত ৪৫ হাজার করোনারি স্টেন্ট ব্যবহার করা হয়। ফলে কর ছাড় কার্যকর হলে বিপুল সংখ্যক হৃদরোগী সরাসরি সুবিধা পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    চিকিৎসকদের মতে, দেশে হৃদরোগ এখন নীরব মহামারির রূপ নিয়েছে। কিন্তু চিকিৎসা ব্যয় অত্যন্ত বেশি হওয়ায় অনেক রোগী সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারেন না। এর ফলে জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি আরও বাড়ছে। হার্টের রিংয়ের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার শুধু রোগীদের জন্য স্বস্তিই আনবে না, বরং জরুরি চিকিৎসা গ্রহণের পথও কিছুটা সহজ করবে।

    ডায়ালাইসিস রোগীদের জন্য স্বস্তির আভাস:

    দেশে কিডনি রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় দিন দিন ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। যেসব রোগীকে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ডায়ালাইসিস করতে হয়, তাদের অনেকের মাসিক চিকিৎসা ব্যয় প্রায় ৫০ হাজার টাকায় পৌঁছে যাচ্ছে। এতে অসংখ্য পরিবার চরম আর্থিক চাপে পড়ছে।

    বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) ২০২৪ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ডায়ালাইসিস করা রোগীদের মাসিক গড় ব্যয় ৪৬ হাজার টাকারও বেশি। এই ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে প্রায় ৯৩ শতাংশ পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে ডায়ালাইসিস যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম আমদানির ওপর থাকা ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অগ্রিম কর প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে চিকিৎসা ব্যয় কিছুটা হলেও কমতে পারে।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কর কমানো হলে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে ডায়ালাইসিসের খরচ কমার সুযোগ তৈরি হবে। তবে কর ছাড়ের পুরো সুবিধা রোগীরা পাচ্ছেন কিনা, তা নিশ্চিত করতে বাজার তদারকি বাড়ানোও জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

    ওষুধ শিল্পে নতুন কর সুবিধার পরিকল্পনা:

    আসন্ন বাজেটে দেশীয় ওষুধ শিল্পের জন্যও বড় ধরনের প্রণোদনা আসতে পারে। বিশেষ করে ‘অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস’ বা এপিআই উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন কর সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। বর্তমানে দেশের ওষুধ শিল্পের বড় অংশের কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এতে উৎপাদন ব্যয় যেমন বাড়ে, তেমনি বৈদেশিক মুদ্রার ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, দেশে এপিআই উৎপাদন বাড়ানো গেলে দীর্ঘমেয়াদে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং স্থানীয় শিল্প আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। স্বাস্থ্য খাতে সম্ভাব্য এই কর ছাড় ও প্রণোদনা শুধু মানবিক উদ্যোগ নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। চিকিৎসা ব্যয় কমলে সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ কমবে, পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পের বিকাশও ত্বরান্বিত হবে।

    সিগারেট ও মদে বাড়তি করের প্রস্তুতি:

    স্বাস্থ্য খাতে কর ছাড়ের পরিকল্পনার পাশাপাশি তামাক ও অ্যালকোহলজাত পণ্যে কর বাড়ানোর দিকেও এগোচ্ছে সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী বাজেটে প্রিমিয়াম, উচ্চ, মাঝারি ও নিম্ন—সব স্তরের সিগারেটের দাম বাড়তে পারে।

    বর্তমানে দেশে সিগারেটের খুচরা মূল্যের প্রায় ৮৩ শতাংশই কর হিসেবে আদায় করা হয়। বাংলাদেশে এখন ‘এড-ভেলোরেম’ পদ্ধতিতে কর নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ পণ্যের দাম যত বাড়ে, করের পরিমাণও তত বৃদ্ধি পায়। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, তামাকজাত পণ্য থেকে বছরে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আসে। নতুন বাজেটে এই খাত থেকে আরও অতিরিক্ত ৬ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সিগারেটের দাম বৃদ্ধি শুধু রাজস্ব বাড়ানোর কৌশল নয়, এটি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ধূমপান নিরুৎসাহিত করতে উচ্চ কর কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

    এদিকে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মদের ওপর প্রতি লিটারে ৪০০ টাকা সুনির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপের প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্বজুড়ে এখন ক্ষতিকর পণ্যের ওপর বাড়তি কর আরোপের প্রবণতা বাড়ছে। আন্তর্জাতিকভাবে এটি ‘সিন ট্যাক্স’ নামে পরিচিত। বাংলাদেশও সেই নীতির দিকেই এগোচ্ছে।

    অন্যদিকে বড় সিগারেট কোম্পানিগুলোর কর কাঠামো পরিবর্তনের তৎপরতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা বর্তমান ‘এড-ভেলোরেম’ পদ্ধতির পরিবর্তে ‘সুনির্দিষ্ট কর কাঠামো’ চালুর জন্য জোর লবিং করছে। কোম্পানিগুলোর দাবি, সুনির্দিষ্ট কর ব্যবস্থা চালু হলে কর কাঠামো আরও সহজ হবে। তবে এনবিআরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এতে সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

    একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হিসাব অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট কর ব্যবস্থা চালু হলে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এই পরিবর্তন কার্যকর হলে বড় কোম্পানিগুলো নিজেদের মুনাফা বাড়ানোর সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে সরকারের মূল্য নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

    তিন লাখ কোটি টাকার এডিপি নিয়ে প্রশ্ন:

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ কোটি টাকার বেশি আকারের রেকর্ড বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করেছে সরকার। এমন বড় উন্নয়ন বাজেটকে অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর সাহসী উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ এই বিশাল পরিকল্পনার বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে বড় বিনিয়োগের বিকল্প নেই। সরকারের মতে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং কর্মসংস্থানে বড় বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতিতে নতুন গতি আনা সম্ভব।

    অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় এত বড় এডিপি বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে। অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন, আগামী বাজেট বাস্তবভিত্তিক হবে নাকি ‘অলৌকিক প্রক্কলননির্ভর’ হয়ে উঠবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তার মতে, অতীতেও উন্নয়ন বাজেটের বড় অংশ বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে আবারও বিশাল আকারের এডিপি অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

    করের চাপ কি আবারও সাধারণ মানুষের ওপর?

    অর্থনীতিবিদ ও কর বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের করব্যবস্থার অন্যতম বড় দুর্বলতা হলো অতিরিক্ত পরোক্ষ করনির্ভরতা। ভ্যাট, আমদানি শুল্ক ও উৎসে করের মতো কর ধনী-গরিব সবাইকে প্রায় একই হারে দিতে হয়। ফলে একজন রিকশাচালক ও একজন ধনী ব্যবসায়ী একই পণ্যে সমান হারে ভ্যাট পরিশোধ করেন।

    এই ধরনের কর কাঠামো সামাজিক বৈষম্য আরও বাড়িয়ে তোলে। ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, যেসব খাতে সহজে ভ্যাট আদায় সম্ভব হয়, এনবিআর মূলত সেখানেই কর বাড়াতে আগ্রহ দেখায়। কিন্তু প্রকৃত আয়কর আদায়ে কার্যকর ঝুঁকি নিতে চায় না। অন্যদিকে কর ফাঁকি, অর্থপাচার ও সম্পদ গোপনের মতো বড় অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুল মজিদ মনে করেন, প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোর নীতিনির্ধারণে প্রভাব থাকায় ধনীদের ওপর কার্যকর কর আরোপ প্রায়ই কঠিন হয়ে পড়ে। উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি করব্যবস্থায় ন্যায্যতা নিশ্চিত না করা গেলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। ফলে নতুন বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে উন্নয়ন ও জনস্বস্তির মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা।

    সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—রাজস্ব আয় বাড়ানো, কিন্তু সেই চাপ যেন সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে না তোলে। কারণ একদিকে বড় উন্নয়ন ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার চাপও বাড়ছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শুধু বড় অঙ্কের বাজেট ঘোষণা করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা, ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং করব্যবস্থায় ন্যায়সঙ্গত সংস্কার আনা।

    তাদের মতে, হার্টের রিং, ডায়ালাইসিস সরঞ্জাম ও ওষুধ খাতে কর ছাড় কার্যকর হলে লাখো রোগী সরাসরি স্বস্তি পাবেন। এতে চিকিৎসা ব্যয় কিছুটা কমবে এবং সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপও আংশিকভাবে হ্রাস পাবে। তবে একই সময়ে ভোগ্যপণ্য, প্রযুক্তিপণ্য ও দৈনন্দিন সেবায় নতুন করের বোঝা বাড়লে সেই স্বস্তির বড় অংশ আবারও মূল্যস্ফীতির চাপে হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

    এবারের বাজেটের সাফল্য নির্ভর করবে সরকার কতটা ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে তার ওপর। একদিকে উন্নয়ন ব্যয় ও রাজস্ব সংগ্রহ, অন্যদিকে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ—এই দুইয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

    শেষ পর্যন্ত এবারের বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এটি হয়ে উঠতে পারে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের এক কঠিন পরীক্ষার প্রতিচ্ছবি। একদিকে হার্টের রিং, ডায়ালাইসিস ও ওষুধে কর ছাড়ের স্বস্তি, অন্যদিকে সিগারেট, ভোগ্যপণ্য ও দৈনন্দিন সেবায় সম্ভাব্য বাড়তি করের চাপ—এই দুই বাস্তবতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে দেশের কোটি মানুষ। সরকার উন্নয়ন ও রাজস্ব বৃদ্ধির বড় লক্ষ্য সামনে রাখলেও সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই—এই বাজেট কি সত্যিই জীবনকে কিছুটা সহজ করবে, নাকি মূল্যস্ফীতি আর ব্যয়ের চাপে স্বস্তির প্রতিশ্রুতিও শেষ পর্যন্ত হারিয়ে যাবে?

    সিভি/এম

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কমছে কেন?

    মে 19, 2026
    অর্থনীতি

    যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি অর্থনীতির জন্য চাপসৃষ্টিকারী

    মে 19, 2026
    অর্থনীতি

    শীর্ষ ১০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি ৭০%—কর্মসংস্থান মাত্র ১৫%

    মে 19, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.