বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠিত পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সাধারণ পর্ষদে নতুন সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছেন দুই বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ। ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তফা কে. মুজেরী এবং বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক। তারা সাধারণ পর্ষদের সদস্য হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়া মো. রইছউল আলম মণ্ডল ও ড. আবদুল্লাহ আল মাহমুদের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
গতকাল রোববার পিকেএসএফ ভবন-১-এ অনুষ্ঠিত ৩৬তম বার্ষিক সাধারণ সভায় এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। সভায় পিকেএসএফের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনও অনুমোদন করা হয়। এর আগে পূর্বাহ্নে পিকেএসএফ পরিচালনা পর্ষদের ২৬৩তম সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দুই সভাতেই পিকেএসএফ চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের, পর্ষদ সদস্য ড. সহিদ আকতার হোসাইন, নূরুন নাহার, ফারজানা চৌধুরী, প্রফেসর ড. মো. তৌফিকুল ইসলাম এবং লীলা রশিদ, পিএইচডি। এছাড়া সাধারণ পর্ষদের সভায় সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
সভা দুটিতে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে পিকেএসএফের বিভিন্ন কার্যক্রমের ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। আলোচনার প্রেক্ষিতে দক্ষতা ও উদ্যোগ উন্নয়ন বিষয়ক কার্যক্রমের তহবিল বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
উল্লেখযোগ্য, ১৯৯০ সালে দারিদ্র্য বিমোচনের উদ্দেশ্যে পিকেএসএফ প্রতিষ্ঠিত হয়। ফাউন্ডেশন দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে অর্থ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে। পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচনে পরিচালিত বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণে পিকেএসএফ বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।
পিকেএসএফের আদলে বর্তমানে এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। আরও অনেক দেশ একই ধরনের প্রতিষ্ঠান গঠনে আগ্রহ প্রকাশ করছে। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করা পিকেএসএফ নিজস্ব ভাবমূর্তি ও স্বকীয়তা বজায় রেখে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে উদাহরণ স্থাপন করেছে। এটি দারিদ্র্য বিমোচনে অগ্রণী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নতুন কর্মপ্রয়াস অব্যাহত রেখেছে। পিকেএসএফ কোনো সীমিত সময়ের প্রকল্প নয়, বরং একটি স্বশাসিত ও স্বতন্ত্রধারার প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

