দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী এসিআইয়ের সহযোগী প্রতিষ্ঠান স্বপ্ন সুপারশপ ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ২ হাজার ৬৫০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। এসিআইয়ের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। গত রোববার এজিএমে প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করা হয়।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, স্বপ্নের ব্যবসায় গত অর্থবছরে প্রায় ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা ছিল ২ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ব্যবসা বেড়েছে ৩৬৫ কোটি টাকা। তাছাড়া, পণ্য বিক্রির খরচও ব্যবসার সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ২ হাজার ৬৫০ কোটি টাকার ব্যবসার বিপরীতে পণ্য বিক্রির খরচ হয়েছে ২ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে এই খরচ ছিল ১ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা।
স্বপ্ন সুপারশপ এসিআই লজিস্টিকসের আওতায় পরিচালিত হয়। গত অর্থবছর শেষে দেশের ৬৮৩টি আউটলেট ছিল। চলতি অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ৬৪ জেলাতে আউটলেট সম্প্রসারণ করেছে। এতে ব্যবসা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কে পৌঁছানোর পরও স্বপ্ন সাধারণ ভোক্তাদের সুবিধার কথা বিবেচনায় ‘সবার জন্য সাশ্রয়ী পুষ্টি’ স্লোগানে গরুর মাংসের কম্বো প্যাক চালু করে। ১৫ দিনে এই কম্বো প্যাক কিনেছেন ১৪ লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক। বিশেষ উদ্যোগটি ব্যবসা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তবে ব্যবসা বৃদ্ধির পরও স্বপ্নের লোকসান বেড়েছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে লোকসান দাঁড়িয়েছে ২৭৩ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এটি ছিল ১৯৬ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে লোকসান বেড়েছে ৭৭ কোটি টাকা বা ৩৯ শতাংশ। প্রধান কারণ ঋণের সুদ বেড়ে যাওয়া। গত অর্থবছরে সুদ হিসেবে প্রতিষ্ঠানকে দিতে হয়েছে ২৯৩ কোটি টাকা। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে সুদ বাবদ খরচ ছিল ২১৪ কোটি টাকা।
অর্থবছরের শেষে স্বপ্ন ২১ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করেছে। কিন্তু সুদ ও কর পরিশোধের পর লোকসান দাঁড়ায় প্রায় পৌনে ৩০০ কোটি টাকায়। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে কর বাবদ সরকারকে দিয়েছে প্রায় ২৭ কোটি টাকা, আগের অর্থবছরে যা ছিল ১৪ কোটি টাকা। কর বৃদ্ধি মূলত ভ্যাট বৃদ্ধির কারণে। পণ্যের ওপর ভ্যাট ৭.৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছিল, যা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রত্যাহার করা হয়।
স্বপ্নের গত পাঁচ বছরের আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০–২১ অর্থবছরে ব্যবসা ছিল ১,৩৭৩ কোটি টাকা এবং কর পরবর্তী লোকসান ১৪২ কোটি টাকা। ২০২১–২২ অর্থবছরে ব্যবসা ১,৩৮৯ কোটি, লোকসান ১৩৬ কোটি। ২০২২–২৩ অর্থবছরে ব্যবসা ১,৮৩২ কোটি, লোকসান ১৫৩ কোটি। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ব্যবসা ২,২৮৫ কোটি, লোকসান ১৯৬ কোটি। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ব্যবসা ২,৬৫০ কোটি, লোকসান ২৭৩ কোটি।
পাঁচ বছরের প্রতিবেদন থেকে বোঝা যায়, ২০২০–২১ ছাড়া বাকি চার অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালন মুনাফা করেছে। তবে ঋণ ও কর পরিশোধের কারণে প্রকৃত মুনাফা দেখা যায়নি। প্রতিটি অর্থবছরে সুদ বাবদ খরচ বেড়েছে।
এসিআই লজিস্টিকের (স্বপ্ন) এমডি সাব্বির হাসান নাসির প্রথম আলোকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ব্যবস্থাপনায় বড় লোকসান থাকছে। মূল কোম্পানি ও ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে এটি সামলানো হয়েছে। ফলে ঋণ ক্রমবর্ধমান হয়েছে এবং সুদ বেড়েছে। পরিচালন মুনাফা থাকলেও প্রকৃত মুনাফা হয়নি। ব্যবসা মডেল পরিবর্তন ও ঋণকে মূলধনে রূপান্তর করলে স্বপ্ন শিগগিরই লাভজনক হবে। প্রক্রিয়াটি ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।’

