মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় রপ্তানি খাতকে সুরক্ষা দিতে নতুন আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। গতকাল বুধবার ৪ হাজার ৫৩১ কোটি রুপির এই সহায়তা প্যাকেজ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বর্তমান মুদ্রা বিনিময় হারে ভারতীয় ১ রুপি সমান বাংলাদেশি ১ টাকা ৩৬ পয়সা। সে হিসাবে ভারতের ঘোষিত সহায়তার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা। এই অর্থ আন্তর্জাতিক মেলা ও প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদারের মতো কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছে ভারত সরকার।
ভারতের এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, এমন সহায়তার ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য ও অভ্যন্তরীণ বাজার—উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তৈরি পোশাক খাতের নিট ক্যাটেগরির পণ্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গতকাল সমকালকে বলেন, ভারত দীর্ঘদিন ধরেই রপ্তানি আয় বাড়াতে নানামুখী প্রণোদনা দিয়ে আসছে। দেশটিতে শিল্পঋণের সুদহার মাত্র ৬ শতাংশ। শিল্পকারখানা স্থাপনে জমি ক্রয়, সরকারি সেবা, শ্রমিক মজুরি এবং অন্যান্য খাতে ব্যাপক সহায়তা দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, এসব সুযোগ কাজে লাগিয়েই বাংলাদেশ বৈধ ও অবৈধভাবে ভারতীয় সুতা ও কাপড়ের বড় বাজারে পরিণত হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক দামে টিকে থাকতে না পেরে দেশের স্পিনিং মিলগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। নতুন এই রপ্তানি সহায়তা বাংলাদেশের সুতা, বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্পকে আরও কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে ফেলবে।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, প্রতিযোগী দেশগুলো যখন কৌশলগতভাবে প্রণোদনা দিচ্ছে, তখন বাংলাদেশে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের যুক্তিতে প্রায় সব ধরনের প্রণোদনা বন্ধ করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভারত অনেক আগেই স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে গেছে। তারপরও তারা কীভাবে এই ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখছে। তার মতে, বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশকেও দ্রুত কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। তা না হলে রপ্তানি খাতে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।
ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর গত ১২ নভেম্বর একটি বিশেষ স্কিম ঘোষণা করে ভারত সরকার। এক্সপোর্ট প্রমোশন মিশনের (ইপিএম) আওতায় ভারতীয় রপ্তানিকারকদের সহায়তায় একটি সরকারি তহবিল গঠন করা হয়।
গতকাল দেশটির শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় স্কিমটির বিস্তারিত প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ভারতীয় রপ্তানিকারক, বিশেষ করে অতিক্ষুদ্র এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এমএসএমই) উদ্যোক্তা ও অগ্রাধিকারভুক্ত খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ আরও সহজ করা।
মার্কেট অ্যাকসেস সাপোর্টের আওতায় আমদানি-রপ্তানিকারক সম্মেলন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ এবং অগ্রাধিকারভুক্ত ও উদীয়মান বাজারে বাণিজ্য প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে। এসব কার্যক্রমে প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ভারত সরকার জানিয়েছে, পণ্য ও সেবা রপ্তানি আয় ৮৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করাই এই স্কিমের অন্যতম লক্ষ্য। গত বছর দেশটির মোট রপ্তানি আয় ছিল ৮২৫ বিলিয়ন ডলার।

