বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় বড় ধরনের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটি ২০২৫ সালে বাংলাদেশকে মোট ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। টাকার অঙ্কে যা ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই সহায়তা ২০২৪ সালের ১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
গতকাল সোমবার (৫ জানুয়ারি) এডিবির ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। খাতভিত্তিক বিনিয়োগ পরিকল্পনায় এডিবি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের এই অর্থায়নের মূল লক্ষ্য হবে অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। মোট ঋণের ৩৫ শতাংশ ব্যয় করা হবে পরিবহন অবকাঠামো খাতে। ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৩ শতাংশ। সরকারি খাত ব্যবস্থাপনা ও সুশাসনে ১৬ শতাংশ অর্থ দেওয়া হবে। জ্বালানি খাতে বরাদ্দ ১১ শতাংশ। পানি ও নগর উন্নয়নে ৯ শতাংশ এবং মানব ও সামাজিক উন্নয়ন খাতে ৬ শতাংশ অর্থ ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এডিবি জানায়, বড় প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ৬৮৮ মিলিয়ন ডলারের চট্টগ্রাম–দোহাজারী রেলওয়ে প্রকল্প। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে সরাসরি পর্যটন শহর কক্সবাজার পর্যন্ত রেল যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি দেশের ব্যাংকিং খাত সংস্কার ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে ৫০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বিশেষ কর্মসূচি।
এডিবি কান্ট্রি ডিরেক্টর হে ইয়ুন জিয়ং বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখন বেশ চ্যালেঞ্জিং। এই রূপান্তরকালীন সময়ে বাংলাদেশের পাশে থাকতে পেরে এডিবি গর্বিত। তিনি বলেন, এই প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য ও অবকাঠামো উন্নয়নের যৌথ লক্ষ্যকে তুলে ধরে।
সংস্থাটি আরও জানায়, অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে গত বছর ৭২০ মিলিয়ন ডলারের সহ-অর্থায়ন সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত বাংলাদেশে এডিবির মোট ঋণের পরিমাণ ৪২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বর্তমানে দেশে ১০ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ৪৮টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
আগামী বছরের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে এডিবি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে অর্থনৈতিক করিডোর গঠন, মাল্টিমোডাল লজিস্টিকস শক্তিশালী করা, পুঁজিবাজার উন্নয়ন এবং ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতের উন্নয়নেও সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

