সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকার খুচরা বাজারে আবারও বাড়তির চাপ পড়েছে নিত্যপণ্যের দামে। বিশেষ করে চাল ও শীতকালীন সবজির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। নতুন ধানের চাল বাজারে আসার ঠিক আগমুহূর্তে পুরোনো চালের দাম কেজিতে ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
অন্যদিকে, পেঁয়াজে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা কমে ৪৫ টাকায় নেমেছে। তবে আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ আগের মতোই ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ানবাজার, নিউমার্কেট ও হাতিরপুল ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের দাম কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৮৩–৮৪ টাকায়, যা আগের তুলনায় ৩–৪ টাকা বেশি। রশিদ মিনিকেটের দাম ৭২ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা, নন-ব্র্যান্ডের মিনিকেট ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, আর দামি মিনিকেট মোজাম্মেল বিক্রি হচ্ছে ৮৫–৮৬ টাকা কেজি দরে।
নাজিরশাইল চালের দামও বেড়েছে। দেশি নাজিরশাইল ধরনভেদে বিক্রি হচ্ছে ৭২ থেকে ৮৫ টাকা কেজিতে, যা এক সপ্তাহ আগে ৩–৪ টাকা কম ছিল। আমদানি করা নাজিরশাইল চালের দামও কেজিতে ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৭৫ থেকে ৭৮ টাকা হয়েছে।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, আউশ, আমন ও নাজিরশাইল ধানের চাল বাজারে আসতে শুরু করেছে। সাধারণত এই সময় পুরোনো চালের দাম কমার কথা। কিন্তু এবার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।
কারওয়ানবাজারের চাল বিক্রেতা সাগর হোসেন বলেন,
“প্রতিবছর নতুন চাল এলে পুরোনো চালের দাম কেজিতে ১–২ টাকা বাড়ে। কিন্তু এবার নতুন চাল আসার আগেই দাম ৩–৪ টাকা বেড়ে গেছে। এতে নতুন চাল আসার পর দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা আছে।”
চালের পাশাপাশি সবজির বাজারেও বেড়েছে অস্বস্তি। প্রায় সব শীতকালীন সবজির দামই এক সপ্তাহে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকা হয়েছে। শশা বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে, যা আগের সপ্তাহে ১০–২০ টাকা কম ছিল। ফুলকপি ৪০ টাকা ও পাতাকপি ৪৫–৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে—প্রতিটি আগের তুলনায় ১০–১৫ টাকা বেশি।
শিমের দাম কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মূলা ৫০ টাকা, টমেটো ৯০ থেকে ১০০ টাকা, আর উচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে—সব ক্ষেত্রেই আগের সপ্তাহের তুলনায় দাম বেড়েছে।
লালবাগের এক সবজি বিক্রেতা বলেন,
“কুয়াশার কারণে মাঠ থেকে সবজি ঠিকমতো আসছে না। সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে।”
ডিমের দামে বড় কোনো পরিবর্তন না হলেও মুরগির বাজারে আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়।
পাকিস্তানি মুরগি কেজিতে ২৬০–২৭০ টাকা, যা আগের তুলনায় প্রায় ২০ টাকা বেশি। দেশি মুরগির দাম বেড়ে ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা কেজিতে দাঁড়িয়েছে। ব্রয়লার মুরগিও কেজিতে ১০–১৫ টাকা বেড়ে ১৬০–১৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

