ঢাকায় এখন পর্যন্ত একটি মাত্র মেট্রোরেল লাইন চালু রয়েছে। নগরবাসীর যাতায়াতের চাপ কমাতে ও গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে এবার ঢাকার আরেকটি মেট্রো প্রকল্পে অর্থায়নের আগ্রহ দেখাচ্ছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি গাবতলী থেকে ডেমরা পর্যন্ত প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন–২ প্রকল্পে ঋণ দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন, অর্থায়ন কাঠামো এবং দরপত্র প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে আগামী সোমবার ঢাকায় আসছে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল। তারা ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থান করবে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) মেট্রোরেল নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এমআরটি লাইন–২ প্রকল্পের জন্য একটি আলাদা কারিগরি সহায়তা প্রকল্প নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এই প্রস্তুতিমূলক কাজের জন্য বিশ্বব্যাংক অনুদান হিসেবে ২৫ লাখ মার্কিন ডলার দেবে।
সমীক্ষা ও নকশা চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রকল্পটির মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ এখনই প্রকল্প ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট অঙ্ক নির্ধারিত হয়নি।
প্রাথমিকভাবে এমআরটি লাইন–২ গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জ সদর পর্যন্ত নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। তখন রুটের দৈর্ঘ্য ধরা হয়েছিল প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এবং ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৬১ হাজার কোটি টাকা।
পরবর্তীতে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) হালনাগাদ কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় রুট পরিবর্তন করা হয়। এখন এই লাইনটি গাবতলী থেকে ডেমরা পর্যন্ত ২৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে।
এই রুটে গাবতলী, ঢাকা উদ্যান, বসিলা মোড়, মোহাম্মদপুর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড, জিগাতলা, সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মিটফোর্ড, নয়াবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, কাজলা হয়ে ডেমরার তাড়াবো বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত স্টেশন থাকবে।
ডিএমটিসিএলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এমআরটি লাইন–২ হবে উড়াল ও পাতালপথের সমন্বয়ে নির্মিত। এই লাইনের ডিপো, ডিপো অ্যাকসেস করিডোর এবং কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড নির্মাণের জন্য ডেমরার মাতুয়াইল ও দামড়িপাড়া এলাকায় প্রায় ১৬৩ দশমিক ৮৬৬ একর জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। রাজউকের ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যানেও এই জমি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো মেট্রোরেল প্রকল্পে অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংক। প্রতিনিধি দলটি ঢাকায় অবস্থানকালে ডিএমটিসিএল ছাড়াও ডিটিসিএ, রাজউক, পরিকল্পনা কমিশন এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে।
ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, আপাতত কারিগরি সহায়তা প্রকল্প নিয়েই আলোচনা চলছে। এই ধাপ শেষ হওয়ার পর মূল অর্থায়ন ও চুক্তির বিষয়গুলো সামনে আসবে।
বর্তমানে ঢাকার প্রথম মেট্রোরেল এমআরটি লাইন–৬ বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ৩৩ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা। এই লাইনটি মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ চলছে।
এছাড়া আরও দুটি মেট্রো প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত এমআরটি লাইন–১-এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৫২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা। হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত এমআরটি লাইন–৫ (নর্দান রুট) নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং শহরের যানজট কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

