চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) আটটি মেগা প্রকল্প বড় ধরনের কাটছাঁটের মুখে পড়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের খসড়া অনুযায়ী, এসব প্রকল্পে বরাদ্দ কমেছে মোট ১৩ হাজার ৩৪৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। সবচেয়ে বেশি সংকোচন দেখা যাচ্ছে অবকাঠামো খাতে।
আজ সোমবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় সংশোধিত এডিপি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানাবেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যেসব প্রকল্পে বরাদ্দ কমছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন, এমআরটি লাইন-৬, এমআরটি লাইন-১, এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর), বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি), ঢাকা-সিলেট চার লেন সড়ক, হাটিকুমরুল-রংপুর চার লেন মহাসড়ক এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প।
পরিকল্পনা কমিশনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ কমানো হয়েছে বাস্তবায়নকারী সংস্থার অগ্রগতি ও চাহিদার ভিত্তিতে। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খসড়া আরএডিপি এনইসি সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে।
খসড়া আরএডিপি অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির তুলনায় মোট বরাদ্দ কমেছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। ফলে সংশোধিত এডিপির আকার দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ কোটি টাকায়, যেখানে মূল এডিপি ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। বরাদ্দ রাখা হয়েছে মোট ১ হাজার ১৭১টি প্রকল্পে।
পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, মূল এডিপিতে আটটি মেগা প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ছিল ২০ হাজার ৫৯৮ কোটি ৬ লাখ টাকা। সংশোধিত এডিপিতে তা কমিয়ে ৭ হাজার ২০৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকায় আনা হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় কাটছাঁট আসছে মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোতে। এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পে বরাদ্দ কমানো হচ্ছে ৭ হাজার ৮৩০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, যা মূল বরাদ্দের প্রায় ৯১ শতাংশ। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর রেলস্টেশন পর্যন্ত প্রকল্পের মূল বরাদ্দ ছিল ৮ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা, যা নেমে আসছে মাত্র ৮০১ কোটি টাকায়।
এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পে বরাদ্দ কমছে ৬০ শতাংশ। ১ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা থেকে তা কমে ৫৯২ কোটি টাকায়। দেশের প্রথম মেট্রোরেল প্রকল্প এমআরটি লাইন-৬-এও বরাদ্দ কমছে ২৪ শতাংশ। এখানে ১ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ২৩ কোটি টাকা রাখা হয়েছে।
বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পেও প্রায় ৬০ শতাংশ কাটছাঁট করা হয়েছে। অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ কমছে ৭৩ শতাংশ। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পে বরাদ্দ কমছে ৭১ শতাংশ।
হাটিকুমরুল-রংপুর চার লেন মহাসড়ক প্রকল্পে বরাদ্দ কমিয়ে ১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকায় আনা হচ্ছে। ঢাকা-সিলেট চার লেন সড়ক প্রকল্পেও বরাদ্দ কমানো হয়েছে ৫৫ কোটি ১০ লাখ টাকা; নতুন বরাদ্দ ১ হাজার ৬৬৮ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “মেগা অবকাঠামো প্রকল্পে বরাদ্দ কমালে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়। জনগণ সময়মতো সেবা পায় না এবং শেষ করতে গিয়ে ভবিষ্যতে খরচও বেড়ে যায়।”

