জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এনএসইজেড) ৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে জ্যান্ট অ্যাকসেসরিজ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি রপ্তানিমুখী শিল্প স্থাপনের জন্য বুধবার বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কার্যালয়ে জমি লিজ চুক্তি সম্পন্ন করেছে।
চুক্তি অনুযায়ী, জ্যান্ট অ্যাকসেসরিজ এনএসইজেডে পাঁচ একর জমিতে একটি পরিবেশবান্ধব শিল্প ইউনিট স্থাপন করবে। ইউনিটটি কম পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে এবং গ্যাসের প্রয়োজন হবে না। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, আগামী বছরের মে মাস থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে।
নতুন ইউনিটে উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে থাকবে পলিউরেথেন ফোম, পলিইথিলিন ফোম, রিসাইকেলড ফোম, ম্যাট্রেস, পিলো, কমফোর্টার এবং শু ইনসোল। উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের প্রায় ৯০ শতাংশ চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা হবে। প্রতিষ্ঠানটির ইতিমধ্যে কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় একটি কারখানা রয়েছে।
বেজা আশা করছে, এই শিল্প ইউনিট স্থানীয় পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান তৈরি করবে। এছাড়া দেশের রপ্তানি খাতে নতুন সংযোজন ঘটবে। আধুনিক প্রযুক্তি ও মানসম্মত উৎপাদনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে বলে তারা মনে করছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেজার নির্বাহী সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) সালেহ আহমদ বলেন, জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জ্যান্ট অ্যাকসেসরিজের বিনিয়োগ পরিবেশবান্ধব শিল্পের একটি ভালো উদাহরণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের রপ্তানিমুখী শিল্প অন্য দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও এখানে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।
জ্যান্ট অ্যাকসেসরিজের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রকল্পের মাধ্যমে তারা টেকসই শিল্পায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব দেবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশাও প্রকাশ করা হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর করেন বেজার পক্ষে নির্বাহী সদস্য সালেহ আহমদ এবং জ্যান্ট অ্যাকসেসরিজের পক্ষে চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন। অনুষ্ঠানে বেজা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বেজা সূত্র জানায়, জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ১৭টি শিল্প প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং আরও ২৪টি নির্মাণাধীন। দেশের বৃহত্তম এই পরিকল্পিত অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প স্থাপনের পাশাপাশি আধুনিক নগর সুবিধা, অবকাঠামো ও টেকসই ইউটিলিটি গড়ে তোলা হচ্ছে।

