বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৬২৪ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা পরিমাণে ৩২ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলারের সমান।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী দেশের গ্রস রিজার্ভ এই পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে ২৮ হাজার ২৯ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ২৮ দশমিক ০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এই দুটি হিসাবের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বরাবরই বিপিএম-৬ পদ্ধতির হিসাবকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। কারণ, এই পদ্ধতিতে স্বল্পমেয়াদি দায় ও বিভিন্ন প্রতিশ্রুত অর্থ বাদ দিয়ে দেশের প্রকৃত সক্ষমতা বা নিট রিজার্ভের একটি বাস্তব চিত্র পাওয়া যায়।
এর আগে, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের আকুর (ACU) বিল পরিশোধের পর গত ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার ৪৩৯ দশমিক ৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সে সময় আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের অঙ্ক দাঁড়িয়েছিল ২৭ হাজার ৮৪৫ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দুই হিসাবেই রিজার্ভে একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ, আমদানি ব্যয় ও ডলার বাজারের চাপের মধ্যেও রিজার্ভে এই সামান্য বৃদ্ধি একটি ইতিবাচক সংকেত। যদিও এটি বড় কোনো ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত নয়, তবে অন্তত স্থিতিশীলতার পথে একটি ধাপ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
উল্লেখ্য, নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ নির্ধারণ করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। এই হিসাব অনুযায়ী, মোট বা গ্রস রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক দায়, বিভিন্ন আমানত ও প্রতিশ্রুত অর্থ বাদ দেওয়া হয়। ফলে নিট রিজার্ভের অঙ্কই মূলত বলে দেয়—জরুরি মুহূর্তে দেশের হাতে আসলে কতটা বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারযোগ্য রয়েছে।
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্যহীনতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রিজার্ভ পরিস্থিতি যে এখনো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে সাম্প্রতিক এই পরিসংখ্যান অন্তত এটুকু ইঙ্গিত দিচ্ছে, রিজার্ভ পুরোপুরি সংকটময় পথে নেমে যাচ্ছে না—বরং ধীরে হলেও স্থিতিশীল থাকার চেষ্টা করছে।

