বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা প্রত্যাহার বাতিলের জন্য সরকারকে অনতিবিলম্বে সুপারিশ করেছে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠন দুটি জানিয়েছে, বন্ডেড সুবিধা প্রত্যাহার করলে রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের কাঁচামাল ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এতে সরাসরি রপ্তানি প্রতিযোগিতা ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
‘পাটশিল্পের পরে গার্মেন্টশিল্প বন্ধের পাঁয়তারা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান। উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি রেজওয়ান সেলিম, পরিচালক ফয়সাল সামাদ প্রমুখ।
বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, “বিশ্ববাজারের মন্দাভাব, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটের মধ্যেই সুতা আমদানিতে শুল্কারোপের মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমাদের মতামত উপেক্ষা করে ট্যারিফ কমিশন একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি রপ্তানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
তিনি আরও জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে পোশাক রপ্তানি পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ২.৬৩ শতাংশ কমেছে। শুধু ডিসেম্বরেই কমেছে ১৪.২৩ শতাংশ। উচ্চ দামে সুতা কিনতে গেলে ক্রেতারা অর্ডার কমিয়ে দিতে পারেন, যা শিল্পের জন্য ক্ষতিকর।
সেলিম রহমান সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান, সুতা আমদানিতে শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। তিনি বলেন, “বস্ত্র খাতকে সুরক্ষা দিতে হলে আমদানিতে শুল্ক না বসিয়ে সরাসরি নগদ সহায়তা বা বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে। গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করা, জ্বালানির মূল্য যৌক্তিক করা, করপোরেট ট্যাক্সে ছাড় ও স্বল্প সুদে ঋণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করলেই স্পিনিং মিলগুলোর উৎপাদন খরচ কমানো সম্ভব।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, একতরফা শুল্কারোপ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সেফগার্ড চুক্তির লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুযায়ী, এমন রক্ষণশীল শুল্ক আরোপের আগে স্থানীয় শিল্পে ‘গুরুতর ক্ষতি’ প্রমাণ করতে হয়। কিন্তু তা করা হয়নি। তিনি বলছেন, “শুল্কারোপটি শিল্প ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক বিপর্যয়কর।”
প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব অনুযায়ী, আমদানি করা সুতার চেয়ে দেশীয় সুতার দাম ৩৫ থেকে ৬০ সেন্ট বেশি। তবে দেশীয় শিল্পকে রক্ষা করতে ২০ সেন্ট বেশি হলেও তারা দেশের সুতার ব্যবহার করতে প্রস্তুত। তারা সরকারকে অনুরোধ করছেন, বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা প্রত্যাহারের আগে এটি নিশ্চিত করা হোক।
বর্তমানে ভারতের সুতা দেশের বেশিরভাগ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পে ব্যবহৃত হয়। ৩০ কার্ডের এক কেজি সুতা বাংলাদেশি মিলগুলো বিক্রি করে প্রায় ৩ মার্কিন ডলারে, ভারতের মিল বিক্রি করে ২.৬০ ডলারে। কম দামের কারণে উদ্যোক্তারা ভারতের সুতিই আমদানি করেন। এছাড়া চীন, ভিয়েতনামসহ কয়েকটি দেশের সুতাও তুলনামূলকভাবে সস্তা।
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “সুতা আমদানিতে শুল্কারোপ হলে রপ্তানি প্রভাবিত হবে। আমরা দেশীয় স্পিনিং মিলকে রক্ষা করি, কিন্তু বন্ডেড সুবিধা যদি বাতিল হয় তবে তৈরি পোশাকশিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ইতিমধ্যেই ছয় মাস ধরে রপ্তানি কমেছে। বন্ডেড সুবিধা প্রত্যাহার হলে রপ্তানি আরও বড় হোঁচট খাবে।”

