দেশে ১ কোটি ১৫ লাখের বেশি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন। এদের মধ্যে চলতি করবর্ষে ৩১ লাখ করদাতা ইতোমধ্যেই রিটার্ন জমা দিয়েছেন। আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩১ জানুয়ারি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সতর্ক করেছে, ২০২৫-২৬ করবর্ষের রিটার্ন বা বিবরণী দাখিল না করলে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেটের মতো জরুরি পরিষেবা বন্ধ হতে পারে।
এনবিআর জানিয়েছে, আয় যাই হোক না কেন কিছু বিশেষ শ্রেণির করদাতার জন্য রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক। পেশা ও কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে ৪৫ ধরনের টিআইএনধারীর জন্য রিটার্ন দাখিল আবশ্যক।
সিটি করপোরেশন এলাকায় সামাজিক অনুষ্ঠান, করপোরেট প্রোগ্রাম, ওয়ার্কশপ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম বা প্রশিক্ষণ আয়োজনের সময় কমিউনিটি সেন্টার, কনভেনশন হল বা সমজাতীয় প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা নেওয়ার আগে আয়কর রিটার্ন দেখানো বাধ্যতামূলক। নির্দিষ্ট সময়ে রিটার্ন না জমালে বিয়ে বা অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠান আটকে যেতে পারে।
রিটার্ন না দাখিল করলে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেটের মতো জরুরি পরিষেবা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আয়কর আইন কর কর্মকর্তাদের এ ক্ষমতা দেয়। আইন ভঙ্গ করলে তারা যে কোনো পরিষেবা সংযোগ বন্ধ করতে পারেন। এছাড়া জরিমানা, অতিরিক্ত কর পরিশোধ ও অন্যান্য মাশুলও দিতে হতে পারে। বেতন-ভাতাদি প্রাপ্তিতেও জটিলতা তৈরি হতে পারে।
আইনের ধারা ২৬৬ অনুযায়ী যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া রিটার্ন না দিলে সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ১০ শতাংশ জরিমানা করা যায়। তবে তা এক হাজার টাকার কম হবে না। রিটার্ন না দেওয়ার অব্যাহত ক্ষেত্রে প্রতিদিন ৫০ টাকা করে অতিরিক্ত জরিমানা ধার্য করা হবে।
দুইটি শর্ত রয়েছে। আগে যাদের কর কখনো নির্ধারণ করা হয়নি, তাদের জন্য সর্বোচ্চ জরিমানা পাঁচ হাজার টাকা। আগে কর নির্ধারণ করা হয়েছিল এমন করদাতার ক্ষেত্রে সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ৫০ শতাংশ অথবা এক হাজার টাকার মধ্যে যেটি বেশি হবে তা জরিমানা হিসেবে ধার্য হবে।
এছাড়া ১৭৪ ধারা অনুযায়ী কর অব্যাহতি কমানো হতে পারে। এর ফলে বিনিয়োগের ওপর পাওয়া কর ছাড়ও কমে যাবে। অতিরিক্ত করের হার মাসিক ২ শতাংশ। ফলে জরিমানার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তি করও দিতে হতে পারে।
চলতি করবর্ষে অনলাইনে রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক। তবে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী, শারীরিকভাবে অসুস্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি ও মৃত করদাতার প্রতিনিধি এই বিধান থেকে মুক্ত। তারা চাইলে ই-রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
করদাতার প্রতিনিধি এ বছর অনলাইনে ই-রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরাও অনলাইনে রিটার্ন দিতে পারেন। যদিও তাদের জন্য বাধ্যবাধকতা নেই, তবে পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও ই-মেইল অ্যাড্রেস ব্যবহার করে ই-রিটার্ন দাখিল সম্ভব।

