আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলেছে, বর্তমান ও আগামী বছর বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে কমবে মূল্যস্ফীতি। চলতি ২০২৬ সালে বিশ্বের অর্থনীতি ৩.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। ২০২৭ সালে প্রবৃদ্ধি সামান্য কমে ৩.২ শতাংশে নামবে।
মূল্যস্ফীতির চাপও কমার দিকে। ২০২৬ সালে বৈশ্বিক গড় মূল্যস্ফীতি ৩.৮ শতাংশে নামতে পারে। ২০২৭ সালে এটি আরও কমে ৩.৪ শতাংশে দাঁড়াবে। তুলনায় ২০২৫ সালে বৈশ্বিক গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৪.১ শতাংশ। তবে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রায় ফিরে আসতে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে।
আজ সোমবার আইএমএফ প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক আপডেট’ প্রতিবেদনে এসব পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
আইএমএফ জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও শক্তিশালী হতে পারে। যদি এআই-সংক্রান্ত ব্যয় উৎপাদনশীলতায় রূপান্তরিত হয়, তা ব্যবসার গতিশীলতা ও উদ্ভাবন বাড়িয়ে অর্থনীতির জন্য বড় সুবিধা বয়ে আনতে পারে।
তবে সংস্থাটি সতর্ক করেছে, বাণিজ্য উত্তেজনা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, বড় বাজেট ঘাটতি ও উচ্চ সরকারি ঋণ দীর্ঘ মেয়াদে সুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, রাজস্ব সক্ষমতা জোরদার করা, অনিশ্চয়তা কমানো এবং কাঠামোগত সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজন রয়েছে।
আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ডলারের দর সামান্য স্থিতিশীল হলেও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যানকে ঘিরে চলা তদন্ত সাময়িক চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে বাণিজ্য উত্তেজনা তুলনামূলকভাবে কম এবং আর্থিক পরিবেশ সহায়ক থাকায় বৈশ্বিক অর্থনীতি বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে।
উন্নত দেশগুলোতে রাজস্ব প্রণোদনা ও সুদের হার কমার কারণে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার আশা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ফ্রান্সে উড়োজাহাজ রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে দেশটির অর্থনীতি ২.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জার্মানিতে রপ্তানি কমার কারণে দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিপি অপরিবর্তিত ছিল। জাপানের অর্থনীতি ২.৩ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। চীনের প্রবৃদ্ধি নেমেছে প্রায় ২.৪ শতাংশে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪.৩ শতাংশে পৌঁছেছে।
আইএমএফের মতে, বৈশ্বিক চাহিদা কম এবং সরবরাহ বাড়ায় পণ্যমূল্যের ওপর চাপ আছে। তবে উচ্চ ব্যয়যুক্ত উৎপাদক, চীনের কৌশলগত মজুত এবং ওপেক প্লাসের মূল্য ধস রোধের অবস্থান তেলের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রাখছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও নিয়ন্ত্রিত থাকতে পারে।
নীতিগত পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার ধাপে ধাপে কমতে পারে। ইউরো অঞ্চলে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা বেশি। জাপানে ধীরে ধীরে সুদ বাড়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে জার্মানি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্প মেয়াদে রাজস্ব নীতি প্রবৃদ্ধিবান্ধব থাকবে।

