সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের নতুন বেতন ও ভাতার সুপারিশ নিয়ে বেতন কমিশন আগামীকাল (বুধবার) প্রতিবেদন জমা দেবে। কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খান সব সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিকেল পাঁচটায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করবেন। এ সময় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদও উপস্থিত থাকবেন।
সচিবালয়ে আজ দুপুরে এসব তথ্য জানান অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তবে তিনি জানান, বেতন কমিশনের প্রতিবেদন জমা হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না।
দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বেতন কমিশন ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক বেতনকাঠামো কার্যকর করার সুপারিশ করেছে। পুরো মাত্রায় এটি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়িত হবে।
আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বেতন কমিশন প্রতিবেদন জমা দিতেন অর্থ উপদেষ্টার কাছে। এরপর তা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপস্থাপন হতো। কিন্তু নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিবেদন সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় জমা দেওয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, প্রতিবেদনের নানা দিক তুলে ধরবেন বেতন কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খান।
কত বাড়তে পারে বেতন:
দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা। এটি দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ধাপে নির্ধারিত বেতন বর্তমানে ৭৮ হাজার টাকা। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী এটি ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করা হচ্ছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ করার সুপারিশ রাখা হয়েছে।
এদিকে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। সরকার নতুন বেতনকাঠামো আংশিক কার্যকর করার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, পুরো বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৭০–৮০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বাজেটের প্রয়োজন হবে। প্রস্তাবিত বেতনকাঠামোতে নীচের ধাপে বেতন–ভাতা বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণের জন্য বেতন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের প্রধান ছিলেন সাবেক অর্থ সচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। ২১ সদস্যের এই কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল।
বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীরা ২০১৫ সালের বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন–ভাতা পান। সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীর সংখ্যা এখন প্রায় ১৫ লাখ।

