চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বা এনসিটির ব্যবস্থাপনা বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এটি হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চ। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। এর আগে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন যুব অর্থনীতি ফোরামের সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হাসান।
রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ৩০ জুলাই হাইকোর্ট রুল জারি করেন। ওই রুলে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ আইন লঙ্ঘন করে দেশীয় অপারেটরদের সুযোগ না দিয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
একই সঙ্গে কন্টেইনার টার্মিনাল হ্যান্ডলিং পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার আগে আইন অনুযায়ী ন্যায্য ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বানের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও রুল জারি করা হয়। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
গত ২৫ নভেম্বর শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৪ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন হাইকোর্ট। তবে ওইদিন এনসিটির ব্যবস্থাপনা বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে রুলের ওপর বিভক্ত রায় দেন আদালত। বিচারপতি ফাতেমা নজীব প্রক্রিয়াটি অবৈধ ঘোষণা করলেও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রুল খারিজ করেন।
বিভক্ত রায়ের কারণে মামলাটি নিয়ম অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। পরে তিনি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চে মামলাটি পাঠান। এই বেঞ্চে বুধবার শুনানি শেষে রায়ের জন্য বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দিন নির্ধারণ করা হয়।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দুবাইভিত্তিক একটি বিদেশি কোম্পানিকে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এনসিটির ব্যবস্থাপনা দেওয়ার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, সেটিই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নতুন করে গতি পেয়েছে। এ খবরে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ও আপত্তি দেখা দেয়।

