বাংলাদেশের বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সাময়িকভাবে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিছক একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি আসলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গভীরে জমে থাকা একাধিক সমস্যার প্রকাশ। একদিকে শিক্ষক স্বল্পতা, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে চলা নিয়োগ-জট—এই দুই চাপের মুখে সরকার এখন অভিজ্ঞ, শারীরিকভাবে সক্ষম অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে উপজেলাভিত্তিক একটি শিক্ষক পুল গঠনের পথে হাঁটছে।
প্রশ্ন হলো, কেন এখন এই উদ্যোগ? আর তার চেয়েও বড় প্রশ্ন—এটি কি সত্যিই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাস্তব সংকট কাটাতে পারবে, নাকি কেবল একটি অস্থায়ী সমাধান হিসেবে আলোচনায় থাকবে?
সরকার কেন এই সিদ্ধান্তে গেল
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষক স্বল্পতা এবং এনটিআরসি’র মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগে দেরির কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এই বাস্তবতা থেকেই জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে উপজেলাভিত্তিক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পুল গঠন করা হয়। লক্ষ্য একটাই—যেখানে প্রয়োজন, সেখানে দ্রুত অভিজ্ঞ শিক্ষক দিয়ে ক্লাস চালু রাখা।
এই পদ্ধতিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি, গভর্নিং বডি বা এডহক কমিটির অনুমোদন নিয়ে সাময়িকভাবে ওই পুল থেকে শিক্ষক নিয়োগ করা যাবে। অর্থাৎ এটি স্থায়ী নিয়োগ নয়; বরং প্রয়োজনভিত্তিক একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা।
সরকারের দৃষ্টিতে এই সিদ্ধান্তের যুক্তি পরিষ্কার: শিক্ষার্থীর ক্লাস বন্ধ রাখা যাবে না। শিক্ষক না থাকলে অন্তত অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্তদের দিয়ে পাঠদান চালু রাখা হোক।
সংকটের পরিসংখ্যান কী বলছে
এই সিদ্ধান্তের পেছনে যে বাস্তবতা আছে, তা সংখ্যাতেও স্পষ্ট। গত ৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদ অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, সারা দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শূন্য রয়েছে ৬০ হাজার ২৯৫টি শিক্ষক পদ। দেশে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৪ হাজার ১২৯টি।
এই পরিসংখ্যান নিজেই পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝায়। যখন হাজার হাজার প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ঘাটতি থেকে যায়, তখন পাঠদান যে বাধাগ্রস্ত হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, গত জানুয়ারিতে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক পদে নিবন্ধিত প্রার্থীদের নিয়োগের সুপারিশ করে এনটিআরসিএ। ওই সময় ১১ হাজার ৭১৩ প্রার্থী ৬৭ হাজার ২০৮টি শিক্ষক ও প্রভাষক পদের বিপরীতে নিয়োগের সুপারিশ পেয়েছিলেন। কিন্তু এরপরেও বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫৫ হাজার ৪৯৫টি পদ শূন্য রয়ে যায়।
এখানেই মূল সংকেতটি আছে: নিয়োগ-প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও শূন্য পদ কমার গতি এত ধীর যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ততদিন অপেক্ষা করতে পারছে না।
সরকার যা বলছে, এনটিআরসিএ যা মানতে চাইছে না
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত দ্বন্দ্বও সামনে এসেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, শিক্ষক সংকট এবং এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগে দেরি—এই দুই কারণেই এমন পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। কিন্তু বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এই ব্যাখ্যার সঙ্গে পুরোপুরি একমত নয়।
এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, এই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ শিক্ষক সংকট বা নিয়োগে বিলম্বের কারণে নয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যদি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমপিও পদ ফাঁকা না থাকে, কিন্তু অতিরিক্ত শিক্ষক প্রয়োজন হয়, তাহলে পুল থেকে শিক্ষক নেওয়া যাবে। তার দাবি, শিক্ষক নিয়োগ দিতে এনটিআরসিএর দেরি হয় না।
এখানে বিষয়টি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। একপক্ষ বলছে, এটি জরুরি সংকট ব্যবস্থাপনা। অন্যপক্ষ বলছে, এটি মূল নিয়োগ-প্রক্রিয়ার বিকল্প নয়, বরং বাড়তি প্রয়োজনের জন্য একটি আলাদা সহায়ক ব্যবস্থা।
এই দুই বক্তব্যের মধ্যকার ফারাক থেকেই বোঝা যায়, সমস্যাটি কেবল প্রশাসনিক নয়; বরং নীতিগত ব্যাখ্যাতেও বিভাজন আছে।
অভিজ্ঞতা বনাম প্রাতিষ্ঠানিক স্থায়িত্ব
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের পক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি হলো অভিজ্ঞতা। বহু বছর শ্রেণিকক্ষে পড়ানো শিক্ষকরা পাঠদানের কৌশল, শিক্ষার্থী ব্যবস্থাপনা, পরীক্ষাভিত্তিক প্রস্তুতি এবং শিক্ষার মান ধরে রাখার ব্যাপারে দক্ষ। বিশেষ করে গ্রামীণ বা শিক্ষক-স্বল্পতায় ভোগা এলাকায় এই অভিজ্ঞতা তাৎক্ষণিকভাবে কাজে লাগতে পারে।
কিন্তু বাস্তবতার আরেকটি দিকও আছে। বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর এক বছরের পূর্ণ শিক্ষাবর্ষ। এমন প্রেক্ষাপটে কোনো অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে যদি মাত্র তিন মাসের জন্য আনা হয়, তাহলে তিনি যে বিষয় বা কোর্স পড়াবেন, সেটি ধারাবাহিকভাবে শেষ করা কঠিন হতে পারে।
অর্থাৎ, ক্লাস নেওয়ার জন্য শিক্ষক পাওয়া গেলেও শিক্ষাবর্ষের ধারাবাহিকতা, সিলেবাস সম্পন্ন করা, মূল্যায়ন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক—এসব জায়গায় চ্যালেঞ্জ থেকেই যায়।
সুতরাং এই উদ্যোগের শক্তি যেমন অভিজ্ঞতা, তেমনি এর দুর্বলতাও হলো অস্থায়িত্ব।
অর্থায়নের প্রশ্ন: সবচেয়ে দুর্বল জায়গা কি এখানেই?
সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিলের অত্যাবশ্যকীয় খাত থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মানী দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এখানেই বড় এক বাস্তব প্রশ্ন উঠে আসে।
সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কি সেই আর্থিক সক্ষমতা আছে? শহরের কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে হয়তো এটি সম্ভব, কিন্তু যেখানে শিক্ষক ঘাটতি সবচেয়ে বেশি, সেই তুলনামূলক দুর্বল বা আর্থিকভাবে সীমিত প্রতিষ্ঠানগুলো কি নিয়মিত সম্মানী দিতে পারবে?
শিক্ষাবিদরা এই জায়গাটিকেই সবচেয়ে জটিল বলছেন। কারণ কোনো নীতি কাগজে যতই ভালো শোনাক, মাঠপর্যায়ে সেটির সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করে অর্থায়নের উপর। যদি প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মানী দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে পুল তৈরি হলেও তা ব্যবহারযোগ্য থাকবে না।
শিক্ষাবিদদের সমর্থন আছে, কিন্তু শর্তহীন নয়
শিক্ষাবিদ ও শিক্ষক নেতাদের অনেকে এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বললেও তারা চোখ বন্ধ করে সমর্থন দিচ্ছেন না। বরং তারা কয়েকটি স্পষ্ট সতর্কতার কথা বলছেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষ পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মো. মাজহারুল হান্নান মনে করেন, সংকটকালীন সময়ে সাময়িকভাবে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে এটি ভালো উদ্যোগ। কিন্তু নিয়োগের ক্ষেত্রে যদি দলীয়করণ বা পক্ষপাতের সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে সেটি উল্টো সমস্যার জন্ম দেবে।
এই আশঙ্কা অমূলক নয়। কারণ স্থানীয় পর্যায়ে গঠিত যেকোনো পুল বা তালিকা যদি স্বচ্ছ নীতিমালা ছাড়া পরিচালিত হয়, তাহলে যোগ্যতার বদলে প্রভাব-প্রতিপত্তি কাজ করার ঝুঁকি থাকে। শিক্ষা খাতের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর।
অন্যদিকে, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ এই উদ্যোগকে ভালো বললেও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের ধারণা নতুন নয়; এমন সুপারিশ আগেও ছিল। কিন্তু মূল প্রশ্ন হলো—স্কুলগুলো কি নিজের তহবিল থেকে এই শিক্ষকদের সম্মানী দিতে পারবে? যেখানে এ ধরনের শিক্ষক সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেখানেই আর্থিক সক্ষমতা সবচেয়ে কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাহলে কি মূল সমস্যাটি থেকে যাচ্ছে?
এখানে এসে পুরো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে আরেকটি প্রশ্ন: অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পুল কি মূল সমস্যার সমাধান, নাকি মূল সমস্যা আড়াল করার উপায়?
যদি দেশে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষক পদ শূন্য থাকে, তাহলে সবচেয়ে জরুরি কাজ হওয়া উচিত নিয়মিত, দ্রুত ও স্বচ্ছ স্থায়ী নিয়োগ নিশ্চিত করা। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পুল সেই শূন্যতা সাময়িকভাবে কিছুটা কমাতে পারে, কিন্তু স্থায়ী শিক্ষক সংকটের বিকল্প হতে পারে না।
এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান নিজেও বলেছেন, এটি এনটিআরসিএর নিয়োগের বিকল্প নয়। তার ভাষায়, এন্ট্রি লেভেলে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। পুলের উদ্দেশ্য হলো যেখানে অতিরিক্ত বা পার্ট-টাইম শিক্ষক দরকার, সেখানে অভিজ্ঞদের কাজে লাগানো।
এই বক্তব্য থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার: সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও জানে, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংকট সমাধান করা যাবে না।
নিয়োগে দেরি হয় কি হয় না—বাস্তব বিচার কী?
নিয়োগে দেরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা বলছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষকস্বল্পতায় ভুগছে। এনটিআরসিএ বলছে, এখন আর দেরি হয় না। চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, আগে লিখিত পরীক্ষার খাতা দেখতে সময় লাগত, কিন্তু এখন এমসিকিউ পরীক্ষা হবে, দুইদিনের মধ্যে খাতা দেখা হয়ে যাবে, তাই দেরির সুযোগ নেই।
তিনি আরও জানিয়েছেন, আগামী ১৫ই এপ্রিলের পরে সারাদেশে কোন বিষয়ে কত শূন্য পদ আছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য বলা যাবে। এ মাসেই প্রতিষ্ঠান প্রধান বা সহকারী প্রধান পদে আরেকটি নিয়োগ পরীক্ষার সার্কুলারও দেওয়া হবে।
এগুলো আশাব্যঞ্জক বার্তা। তবে বাস্তব ফলাফল না আসা পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি এনে দিচ্ছে না। কারণ ঘোষণার চেয়ে বাস্তব নিয়োগ ও যোগদান অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এই উদ্যোগ সফল করতে কী দরকার
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়োগকে কার্যকর করতে হলে কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে।
প্রথমত, পুল গঠনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট যোগ্যতা, বয়স, স্বাস্থ্য এবং অভিজ্ঞতার মানদণ্ড থাকতে হবে। “শারীরিকভাবে সক্ষম” কথাটি যেন কেবল আনুষ্ঠানিক শব্দ হয়ে না থাকে।
দ্বিতীয়ত, নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় প্রভাব, দলীয় বিবেচনা বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের ভিত্তিতে নয়—প্রয়োজন ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক বাছাই হতে হবে।
তৃতীয়ত, সম্মানীর উৎস ও প্রদানের নিয়ম পরিষ্কার না হলে এই উদ্যোগ টিকবে না। আর্থিকভাবে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তার আলাদা চিন্তা না থাকলে বাস্তবে বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।
চতুর্থত, এটি যেন স্থায়ী নিয়োগ আটকে রাখার অজুহাত না হয়। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পুলকে কেবল সেতুবন্ধন হিসেবে ব্যবহার করতে হবে, গন্তব্য হিসেবে নয়।
বেসরকারি স্কুলে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগকে এক কথায় বিচার করা কঠিন। এটি যেমন সংকটের সময়ে বাস্তবসম্মত ও প্রয়োজনীয় একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হতে পারে, তেমনি এটি একইসঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার গভীর শূন্যতাও প্রকাশ করে।
যে দেশে ৬০ হাজার ২৯৫টি শিক্ষক পদ শূন্য, যেখানে ৩৪ হাজার ১২৯টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালায়, যেখানে নিয়োগ সুপারিশের পরও ৫৫ হাজার ৪৯৫টি পদ ফাঁকা থেকে যায়—সেখানে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পুল নিঃসন্দেহে একটি তাৎক্ষণিক ভরসা। কিন্তু এই ভরসা স্থায়ী সমাধান নয়।
শিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত শক্তি আসে নিয়মিত, স্বচ্ছ, দ্রুত এবং যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ থেকে। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা সেই কাঠামোকে সাময়িকভাবে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু তার জায়গা নিতে পারে না।
অতএব, এই উদ্যোগকে সফল বলতে হলে শুধু পুল গঠন নয়—স্বচ্ছ বাস্তবায়ন, অর্থায়নের নিশ্চয়তা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নির্বাচন এবং স্থায়ী নিয়োগ-প্রক্রিয়ার গতি বাড়ানো—সবকিছু একসঙ্গে দেখতে হবে। তা না হলে এটি হয়তো কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য অল্প সময়ের উপশম আনবে, কিন্তু জাতীয় শিক্ষা সংকটের মূল ব্যথা থেকে যাবে আগের জায়গাতেই।

