পবিত্র ঈদুল আজহা এবং গ্রীষ্মকালীন অবকাশকে ঘিরে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শুরু হতে যাচ্ছে দীর্ঘ ছুটি। সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার ও সংশোধিত শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, এবার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা টানা ১৬ দিন থেকে সর্বোচ্চ ২৩ দিন পর্যন্ত ছুটি উপভোগের সুযোগ পাচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সংশোধিত শিক্ষাপঞ্জি বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ শুরু হবে আগামী ২৪ মে, রোববার থেকে। তবে এর আগে ২২ ও ২৩ মে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২১ মে, বৃহস্পতিবার হবে শেষ ক্লাস। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যত দীর্ঘ ছুটির আমেজ শুরু হয়ে যাবে ২২ মে থেকেই।
সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এই ছুটি চলবে ৪ জুন পর্যন্ত। এরপর ৫ ও ৬ জুন সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ৭ জুন থেকে আবার ক্লাস শুরু হবে। সব মিলিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা একটানা ১৬ দিনের ছুটি পাচ্ছে।
অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য অবকাশ আরও দীর্ঘ হচ্ছে। আলিয়া, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসাগুলোতে ছুটি শুরু হবে ২৪ মে থেকে এবং চলবে ১১ জুন পর্যন্ত। এরপর ১২ ও ১৩ জুন সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ১৪ জুন থেকে আবার পাঠদান শুরু হবে। ফলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রায় ২১ থেকে ২৩ দিনের দীর্ঘ অবকাশ উপভোগ করতে পারবে।
দীর্ঘ এই ছুটিকে ঘিরে ইতোমধ্যে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তির অনুভূতি দেখা গেছে। টানা ক্লাস, পরীক্ষা ও গরমের চাপের পর এই অবকাশকে অনেকেই প্রয়োজনীয় বিশ্রামের সুযোগ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহের সময় এই দীর্ঘ বিরতি শিক্ষার্থীদের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।
শিক্ষাবিদদের মতে, দীর্ঘ ছুটি শুধু বিশ্রামের সুযোগই নয়, বরং পরিবারকে সময় দেওয়া, মানসিক চাপ কমানো এবং সহশিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ারও একটি সুযোগ তৈরি করে। তবে একই সঙ্গে তারা শিক্ষার্থীদের ছুটির পুরো সময় অলসভাবে না কাটিয়ে পড়াশোনার সঙ্গে ন্যূনতম সংযোগ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে জুনের ছুটি শেষ হলেও জুলাই ও আগস্ট মাসেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ছুটি রয়েছে। শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ২৯ জুলাই আষাঢ়ী পূর্ণিমা, ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস, ১২ আগস্ট আখেরি চাহার সোম্বা এবং ২৬ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসে জন্মাষ্টমী ও ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ছুটির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়জুড়ে দেশের শিক্ষার্থীরা একাধিক সরকারি ছুটি ও অবকাশের সুযোগ পাচ্ছে, যা অনেকের কাছেই ব্যস্ত শিক্ষাজীবনের মাঝে এক স্বস্তির সময় হিসেবে ধরা দিচ্ছে।

