চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট ও সমমান পরীক্ষায় একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা ধরা পড়েছে—যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি, তাদের সংখ্যা এক বছরের ব্যবধানে দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গেছে। গত বছর সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডে এমন প্রতিষ্ঠান ছিল একশ চৌত্রিশটি, যা এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিনশ বারোটিতে। অর্থাৎ মাত্র এক বছরে যোগ হয়েছে আরও একশ আটাত্তরটি শূন্য-পাস প্রতিষ্ঠান, শতকরা হিসাবে যা প্রায় একশ তেত্রিশ শতাংশ বৃদ্ধি।
আজ সকাল দশটায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী উপস্থিত থেকে ফল প্রকাশের উদ্বোধন করেন, আর দেশের সব কটি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তাঁর হাতে নিজ নিজ বোর্ডের ফলাফল হস্তান্তর করেন।
পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, শুধু শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানই নয়, শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও একই সময়ে কমে গেছে। গত বছর নয়টি সাধারণ বোর্ডে প্রায় নয়শ চুরাশিটি প্রতিষ্ঠান থেকে সব শিক্ষার্থী পাস করেছিল, এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ছয়শ ঊনসত্তরটিতে। অর্থাৎ শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে তিনশ পনেরোটি। দুই দিক থেকেই তাই প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে স্পষ্ট অবনতির চিত্র উঠে এসেছে—একদিকে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠান বেড়েছে, অন্যদিকে সফল প্রতিষ্ঠান কমেছে।
সামগ্রিক ফলাফলেও একই রকম নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। এবারের গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে বাষট্টি দশমিক পঁচিশ শতাংশ, যেখানে গত বছর এই হার ছিল আটষট্টি দশমিক পঁয়তাল্লিশ শতাংশ। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে প্রায় ছয় শতাংশীয় পয়েন্ট, যা শিক্ষাক্ষেত্রে একটি লক্ষণীয় পতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও উত্তীর্ণের হারেও এই পতনের প্রভাব স্পষ্ট। এবার মোট প্রায় আঠারো লাখ ঊনত্রিশ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়, যাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে প্রায় এগারো লাখ আটত্রিশ হাজার জন। গত বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ঊনিশ লাখ চার হাজার, আর তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিল প্রায় তেরো লাখ তিন হাজার জন। অর্থাৎ পরীক্ষার্থী কিছুটা কমার পাশাপাশি উত্তীর্ণের সংখ্যায়ও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি দেখা গেছে।
সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনকারীদের সংখ্যাতেও পতনের ছাপ পড়েছে। এবার জিপিএ পাঁচ পেয়েছে প্রায় এক লাখ ষোলো হাজারের কিছু বেশি শিক্ষার্থী, যেখানে গত বছর এই সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ ঊনচল্লিশ হাজার। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে প্রায় বাইশ হাজার তিনশ জন।
সব মিলিয়ে এবারের ফলাফল শিক্ষা খাতের সামগ্রিক মানের ক্ষেত্রে একধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা যেতে পারে। শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি এবং শতভাগ পাসের প্রতিষ্ঠান হ্রাস একসঙ্গে ঘটায় প্রশ্ন উঠছে পাঠদানের মান, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি নিয়ে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামগ্রিক শিক্ষার মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলতে পারে, যা খতিয়ে দেখা এখন সময়ের দাবি।

