২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল যেন দেশের মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থার সামনে নতুন করে বড় একটি প্রশ্ন দাঁড় করিয়েছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার মাত্র ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় কমেছে প্রায় ৪ শতাংশ। একই সঙ্গে জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ১৯ হাজারের বেশি।
তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল। দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। গত বছর এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৩৪টি, অর্থাৎ এক বছরে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ১৭৮টি। বিপরীতে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান ৯৮৪টি থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৬৬৯টিতে। প্রশ্ন হচ্ছে—এই ফলাফলের দায় কি শুধু শিক্ষার্থীদের?
শিক্ষাবিদদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে কয়েকটি কারণ। একদিকে এবারের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে তুলনামূলক কঠোরতা; অন্যদিকে দীর্ঘদিনের শিখন ঘাটতি, কোভিড-পরবর্তী শিক্ষাক্ষতি, মুখস্থনির্ভর পড়াশোনা এবং পরীক্ষাকেন্দ্রিক প্রস্তুতির দুর্বলতাও এবার প্রকাশ পেয়েছে। ফলে কঠিন প্রশ্ন বা কঠোর মূল্যায়নের মুখে অনেক শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল করতে পারেনি।
এর সঙ্গে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে বিশাল বৈষম্য। কোনো প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করছে, আবার কোনো প্রতিষ্ঠানের একজনও পাস করছে না—এটি শুধু শিক্ষার্থীদের সক্ষমতার পার্থক্য নয়; শিক্ষকসংকট, পাঠদানের মান, অবকাঠামো, একাডেমিক তদারকি এবং প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনার প্রশ্নও সামনে আনে।
তাই এবারের এসএসসি ফলাফলকে শুধু ‘ভরাডুবি’ হিসেবে দেখলে সমস্যার সমাধান হবে না; বরং জানতে হবে—কোথায় শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে, কেন পিছিয়ে পড়ছে এবং কোন প্রতিষ্ঠানগুলো কেন ধারাবাহিকভাবে ভালো বা খারাপ করছে।
কারণ পাসের হার বাড়ানোই শিক্ষার একমাত্র সাফল্য নয়। প্রকৃত সাফল্য হলো—একজন শিক্ষার্থী কী শিখেছে, কতটা বুঝেছে এবং সেই জ্ঞান বাস্তবে কতটা প্রয়োগ করতে পেরেছে । ২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফল তাই শুধু একটি পরীক্ষার ফল নয়; এটি বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।

