আগামী শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই সব শিক্ষার্থীর হাতে পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে বড় ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রায় ৩১ কোটি কপি বই ছাপানোর উদ্যোগ নিয়েছে, যা চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবারের বই ছাপানোর তালিকায় সবচেয়ে বড় অংশ যাচ্ছে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য—মোট প্রায় সাড়ে আট কোটি কপি। এর বাইরে ইবতেদায়ি ধারার প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য সাড়ে তিন কোটির কাছাকাছি এবং ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির জন্য প্রায় আঠারো কোটি কপি বই ছাপা হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বই প্রয়োজন হচ্ছে নবম শ্রেণির জন্য, প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি কপি। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্যও নির্দিষ্টসংখ্যক ব্রেইল পদ্ধতির বই ছাপানো হবে।
শিক্ষাক্রমে পরিবর্তনও আসছে আগামী বছর থেকে। চতুর্থ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে খেলাধুলা ও নিজস্ব সংস্কৃতিবিষয়ক দুটি নতুন বিষয়, আর ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে আনন্দময় শিক্ষা পদ্ধতি ও কারিগরি শিক্ষাবিষয়ক নতুন দুটি বিষয়। ফলে মোট চারটি নতুন বিষয়ের বইও এবার নতুন করে ছাপাতে হচ্ছে।
এই বিপুল পরিমাণ বই ছাপানোর জন্য সরকারের ব্যয় হবে প্রায় উনিশশ কোটি টাকা। জুন মাস থেকে ধাপে ধাপে দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক এবং ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বইয়ের বেশির ভাগ কাজ ইতিমধ্যে এগিয়ে গেলেও অষ্টম ও নবম শ্রেণির বইয়ের প্রক্রিয়া এখনো সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। এছাড়া প্রায় পঞ্চাশটি লটে এক কোটির বেশি বইয়ের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করতে হচ্ছে, যার একটি বড় অংশ নবম শ্রেণির বইয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
তবে এনসিটিবির শীর্ষ কর্মকর্তা আশ্বস্ত করেছেন, নভেম্বরের মধ্যেই ছাপার সব কাজ সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া সম্ভব হবে। প্রতি বছরের মতো এবারও শিক্ষাবর্ষের শুরুতে নতুন বই হাতে পাওয়া নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে, আর সময়মতো এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করাই এখন কর্তৃপক্ষের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

