শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধান করতে না পারলে ভবিষ্যতে আর তাদের সামনে আসবেন না বলে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম। তিনি স্বীকার করেছেন, চার বছরের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান হবে কিনা তা নিশ্চিত নয়, তবে তার প্রশাসন অন্তত এসব সমস্যা সমাধানের কাজ শুরু করে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কেন্দ্রীয় নবীনবরণ অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি।
উপাচার্য জানান, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট, ভাসমান ক্যান্টিনের সমস্যা এবং মেডিকেল সেন্টারের নানা জটিলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কমিশনের চেয়ারম্যান বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দ্রুত তাদের প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের উদ্যোগ নেবেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আবেগময় বক্তব্যে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত সব আয়োজনের মধ্যে আজকের এই নবীনবরণ অনুষ্ঠানটিকেই তিনি সবচেয়ে অর্থবহ মনে করছেন। তার ভাষায়, এই ক্যাম্পাসে উপস্থিত তরুণ-তরুণীরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কাণ্ডারি, যারা ভবিষ্যতে দেশের হাল ধরতে প্রস্তুত হচ্ছে। তিনি নবীনদের আগামী দিনের পথচলা সুন্দর ও সুষ্ঠু হওয়ার শুভকামনা জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তার দীর্ঘ ঐতিহ্য বজায় রেখে এগিয়ে চলেছে এবং একইসঙ্গে নতুন ইতিহাস গড়ছে। তার মতে, অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যের পেছনে শুধু মেধা নয়, তাদের নিরলস অধ্যবসায় ও পরিশ্রমেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসী থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মেধার সঙ্গে পরিশ্রম ও অধ্যবসায় যুক্ত করা গেলে পৃথিবীর যেকোনো বাধা জয় করা সম্ভব।
শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ অবশ্যই বজায় থাকবে। তবে তার মতে, সেই স্বাধীনতার সঙ্গে সমানভাবে জড়িত থাকতে হবে দায়িত্বশীলতাও—স্বাধীনতা কখনোই দায়িত্বহীনতার সমার্থক নয়, তাই শিক্ষার্থীদের এই স্বাধীনতা দায়িত্বের সঙ্গেই চর্চা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই উপ-উপাচার্য, প্রক্টর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সিন্ডিকেট সদস্য, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক এবং বিভিন্ন বিভাগের সভাপতিসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া দেশের আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

