ইংল্যান্ডের একটি ঐতিহ্যবাহী পাবলিক স্কুল প্রতিষ্ঠার ৪৭৪ বছর পর প্রথমবারের মতো ছাত্রী ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৫৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত বেডফোর্ড স্কুল ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে সহশিক্ষা কার্যক্রম চালু করবে। সূত্র: বিবিসি
স্কুলটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা হারপুর ট্রাস্ট জানিয়েছে, আগামী ১২ মাসে তাদের পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বড় ধরনের বিনিয়োগের অংশ হিসেবে বেডফোর্ড স্কুলে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে শুধু ছেলেদের জন্য পরিচালিত হয়ে আসা বেডফোর্ড স্কুলটি ১৭৬৪ সাল থেকে হারপুর ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় রয়েছে। ট্রাস্টের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এখানে ছেলে ও মেয়ে উভয় শিক্ষার্থীর পড়াশোনার সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে হারপুর ট্রাস্টের অধীনে থাকা চারটি স্বাধীন স্কুলের মধ্যে বেডফোর্ড স্কুল ছেলেদের জন্য এবং বেডফোর্ড মডার্ন স্কুল ছেলে ও মেয়েদের জন্য সহশিক্ষামূলকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
ট্রাস্ট জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের ফলে আরও বেশি তরুণ-তরুণীর জন্য শিক্ষার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বর্তমানে স্কুলটির সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতাও আরও সমৃদ্ধ হবে।
হারপুর ট্রাস্টের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই বিনিয়োগ নিশ্চিত করবে যে প্রতিটি স্কুল ভবিষ্যতেও নিজস্ব স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে অসাধারণ শিক্ষার অভিজ্ঞতা দিতে পারে।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বেডফোর্ড গার্লস স্কুলেও বেশ কিছু উন্নয়ন করা হবে। সেখানে নতুন একটি সংগীতকেন্দ্র ও পরিবেশনার স্থান তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ক্রীড়া কার্যক্রমে বিনিয়োগ এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য একটি নতুন ‘ওয়েলবিয়িং হাব’ স্থাপন করা হবে।
অন্যদিকে, বেডফোর্ড মডার্ন স্কুলে চলমান সংস্কারকাজের অংশ হিসেবে অভ্যর্থনা এলাকা নতুন করে সাজানো হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি প্রার্থনাকক্ষও তৈরি করা হবে।
পিলগ্রিমস প্রি-প্রিপারেটরি স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরিবারগুলোর জন্যও সুখবর রয়েছে। নতুন পরিকল্পনার আওতায় তারা সপ্তাহে ৩০ ঘণ্টা বিনামূল্যে শিশুযত্ন সুবিধা নিতে পারবে। হারপুর ট্রাস্টের অধীনে থাকা পিলগ্রিমস বর্তমানে তিন মাস বয়স থেকে সাত বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রি-প্রিপারেটরি শিক্ষা ও যত্নসেবা দিয়ে থাকে।
হারপুর ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী ডেভিড স্টিডম্যান বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজন মেটাতে তাদের স্কুলগুলো কীভাবে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়, তা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা আত্মবিশ্বাসী যে এসব পরিকল্পনা আমাদের স্কুলগুলোকে আগামী প্রজন্মের পর প্রজন্ম অসাধারণ শিক্ষার অভিজ্ঞতা দিয়ে যেতে সক্ষম করবে।
হারপুর ট্রাস্টের অধীনে থাকা চারটি স্কুলে বর্তমানে তিন হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এবং প্রতিষ্ঠানটিতে এক হাজার ২০০-এর বেশি কর্মী কাজ করছেন।

