ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাম্প্রতিক কয়েকটি উদ্যোগ নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এসব কার্যক্রম প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত আইন, বিধি ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
অনুমোদন ছাড়া কোনো স্থাপনা নির্মাণ, পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু বা সমান্তরাল কোনো কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মর্যাদা রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের একজন উপপরিচালকের পাঠানো বিবৃতিতে এই অবস্থান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে গত ৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে একটি স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল, যেখানে উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্য এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ক্যাম্পাসের সম্পত্তি তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সিন্ডিকেটের হাতে, এবং ছাত্র সংসদের কোনো সিদ্ধান্ত উপাচার্যের নির্দেশনা মেনেই নিতে হয়।
এই প্রেক্ষাপটে ডাকসু ভবনের পাশে এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ডাকসুর নিজস্ব উদ্যোগে স্থাপিত একটি ভিন্ন স্মৃতিস্তম্ভ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য, এই স্থাপনা সিন্ডিকেট বা উপাচার্যের কোনো অনুমতি বা আলোচনা ছাড়াই তৈরি করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ছাত্র সংসদের ক্ষমতার বাইরে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ডাকসুর সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তৎকালীন একটি ছাত্র সংগঠনের এক নেতার ছবি প্রদর্শনের বিষয়টিও প্রশাসনের নজরে এসেছে। কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বক্তব্য, ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতার ইতিহাসের পরিপন্থী ব্যক্তিদের ছবি এভাবে প্রদর্শন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না, এবং এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য ডাকসুর উদ্যোগে অনুমোদনহীন একটি ওয়েবসাইট চালুর বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে প্রশাসন। কর্তৃপক্ষের যুক্তি, শিক্ষক মূল্যায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিক প্রক্রিয়া, যা কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা ছাত্র সংসদ নিজ উদ্যোগে চালু করতে পারে না। এমনকি সেই ওয়েবসাইটে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে, যা প্রচলিত আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য।
প্রশাসন জানিয়েছে, শিক্ষক মূল্যায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একটি নীতিমালা রয়েছে, যা সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদিত এবং তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান। এর বাইরে গিয়ে পৃথক কোনো মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ তারা মানতে নারাজ।
বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ডাকসু ছাত্রদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠান হলেও এর যেকোনো কার্যক্রম পরিচালিত হতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই। প্রশাসনিক কর্তৃত্বকে এড়িয়ে সমান্তরাল কোনো ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সবশেষে বিবৃতিতে আবারও জোর দিয়ে বলা হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অনুমোদনহীন কোনো স্থাপনা বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

