যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক শিক্ষা সাময়িকী ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’ প্রকাশিত বহুল প্রতীক্ষিত ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিং ২০২৭’-এ বিশ্বসেরা এক হাজার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় (৮০১-১০০০ ব্র্যাকেট) স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশের চারটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়। তবে এবারের বিশ্ব র্যাংকিংয়ে দেশের ঐতিহ্যবাহী ও শীর্ষ দুই প্রতিষ্ঠান—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)—তাদের পূর্বের অবস্থান ধরে রাখতে না পেরে সেরা হাজার থেকে পিছিয়ে পড়েছে। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) প্রকাশিত এই বৈশ্বিক তালিকায় বিশ্বের ১১১৮টি দেশের মোট ২ হাজার ২৯৭টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে।
শীর্ষ এক হাজারে স্থান পাওয়া বাংলাদেশের চার বিশ্ববিদ্যালয়
এবারের টিএইচই র্যাংকিংয়ে দেশের সার্বিক উচ্চশিক্ষার প্রতিনিধিত্ব করে ৮০১ থেকে ১০০০-এর বৈশ্বিক বন্ধনীতে যৌথভাবে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে তিনটি বেসরকারি ও একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—
-
আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)
-
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)
-
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
-
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
অন্যদিকে, গত বছর এই ৮০১-১০০০ ব্র্যাকেটের মধ্যে অবস্থান করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবার এক ধাপ পিছিয়ে ১০০১-১২০০ ঘরের তালিকায় নেমে গেছে। একই ব্র্যাকেটে (১০০১-১২০০) অবস্থান করছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ও (বুয়েট)। তবে সামগ্রিক অবস্থানে কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও বুয়েট দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় ‘গবেষণার পরিধি, আয় ও সুনাম’ এবং ‘শিল্প খাতে উদ্ভাবনের প্রভাব’—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকে সর্বোচ্চ জাতীয় স্কোর অর্জন করেছে।
মূল্যায়ন সূচক ও বাংলাদেশের সামগ্রিক চিত্র
শিক্ষাদান , গবেষণার পরিবেশ , গবেষণার মান, শিল্প খাতে প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি; এই পাঁচটি সুনির্দিষ্ট মূল চালিকাছকের ওপর ভিত্তি করে এলসেভিয়ারের সহযোগিতায় এই র্যাংকিং তৈরি করা হয়েছে। এবারের সংস্করণে বাংলাদেশের মোট ৩৫টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হয়েছে; যার মধ্যে ২৫টি প্রতিষ্ঠান সরাসরি র্যাংকিংয়ের মূল ধাপগুলোতে জায়গা পেয়েছে এবং বাকি ১০টি প্রতিষ্ঠান ‘রিপোর্টার’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক বিশেষ কিছু সূচকে দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও ভালো করেছে। যেমন—বিশ্ব তালিকায় ১২০১-১৪০০ ব্র্যাকেটে অবস্থান করলেও ‘শিক্ষার মানসম্মত পরিবেশ’ সূচকে দেশের সব প্রতিষ্ঠানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি। এছাড়া, ‘গবেষণার মান’ এবং ‘আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি’—এই দুই সূচকে জাতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ স্কোর অর্জন করে নিজেদের শক্ত অবস্থানের প্রমাণ দিয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
বিশ্বমঞ্চের শীর্ষ অবস্থান ও বৈশ্বিক প্রবণতা
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বরাবরের মতো বিশ্বজুড়ে টানা ১১তম বছরের মতো শীর্ষস্থান অক্ষুণ্ণ রেখেছে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে যথাক্রমে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি), প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া এশিয়ার শিক্ষাঙ্গনের জন্য এবারের র্যাংকিংটি বেশ ঐতিহাসিক; ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর শীর্ষ ১৫-তে প্রবেশ করায় এই প্রথম এশিয়ার তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বসেরা ১৫-র কোটায় জায়গা করে নিয়েছে। সার্বিকভাবে মহাদেশীয় ইউরোপের উচ্চশিক্ষাকে পেছনে ফেলে এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এই উত্থান বৈশ্বিক শিক্ষায় এক নতুন ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

