বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক যাত্রায় নতুন এক অধ্যায় যোগ করল ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে সফল থিয়েট্রিক্যাল প্রদর্শন শেষে সিনেমাটি অর্জন করেছে ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩৭৬ মার্কিন ডলার, যা দেশের সিনেমার জন্য এখন পর্যন্ত একটি নতুন রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই সাফল্যের মাধ্যমে আগের সর্বোচ্চ আয় করা ‘হাওয়া’ সিনেমার ৩ লাখ ৫৮ হাজার ডলারের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। ফলে বিদেশের বাজারে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের আয়-সাফল্যের তালিকায় নতুন শীর্ষস্থান দখল করল এই সিনেমা।
পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, উত্তর আমেরিকায় সিনেমাটির প্রদর্শনী ধীরে ধীরে দর্শকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে এবং সেই আগ্রহই শেষ পর্যন্ত বড় অঙ্কের আয় এনে দিয়েছে। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের প্রেক্ষাগৃহে নিয়মিত দর্শক উপস্থিতি এই সাফল্যের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
উত্তর আমেরিকার বাজারে আয়ের বিশদ হিসাবেও দেখা যায়, কানাডার ১০টি প্রেক্ষাগৃহ থেকে সিনেমাটি আয় করেছে ২ লাখ ১ হাজার ৩১২ কানাডিয়ান ডলার। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি প্রেক্ষাগৃহ থেকে এসেছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪ মার্কিন ডলার।
আঞ্চলিকভাবে সবচেয়ে বেশি সাড়া পাওয়া গেছে কানাডার টরন্টো শহরে। সেখানে মাত্র দুটি প্রেক্ষাগৃহ থেকেই আয় দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৪০ ডলার, যা একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিউ ইয়র্ক সিটিও পিছিয়ে ছিল না, সেখান থেকে এসেছে ৬৭ হাজার ৫৬১ ডলার।
বিশেষভাবে নজর কাড়ে টরন্টোর একটি প্রেক্ষাগৃহ, যা একাই আয় করেছে ৯২ হাজার ৩৩১ ডলার। উত্তর আমেরিকায় কোনো বাংলাদেশি সিনেমার ক্ষেত্রে এটি এখন পর্যন্ত একক প্রেক্ষাগৃহে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড।
এর আগে এই ধরনের একক প্রেক্ষাগৃহ আয়ের রেকর্ড ছিল ‘প্রিয়তমা’ সিনেমার দখলে, যা নিউ ইয়র্কের একটি প্রেক্ষাগৃহ থেকে ৭৩ হাজার ডলার আয় করেছিল।
পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গি এবং শক্তিশালী অভিনয়শিল্পী সমন্বয়ের কারণে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক দর্শকদের আগ্রহ কাড়ে। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, শরিফুল রাজ, সাবিলা নূর, জাকিয়া বারী মম এবং আজমেরী হক বাঁধন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সাফল্য শুধু একটি সিনেমার অর্জন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার একটি ইঙ্গিত। প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের আগ্রহ, গল্পের গ্রহণযোগ্যতা এবং তারকাদের উপস্থিতি—সব মিলিয়ে সিনেমাটি বিদেশি বাজারে একটি স্থায়ী প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে।
এ ধরনের সাফল্য ভবিষ্যতে আরও বাংলাদেশি সিনেমাকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ ও টিকে থাকার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

