মানব ইতিহাসে বিরল একটি মুহূর্তের মুখোমুখি এখন বিশ্ব জনসংখ্যা। প্রথমবারের মতো পঁয়ষট্টি বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে পাঁচ বছরের নিচে থাকা শিশুদের সংখ্যাকে—একটি জনতাত্ত্বিক মোড় পরিবর্তন যা আগে কখনো ঘটেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনসাস ব্যুরোর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনটির নাম “এন এজিং ওয়ার্ল্ড ২০২৫”। এতে বলা হয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২৫—এই পাঁচ বছরের সময়সীমায় দুটি প্রবণতা একসঙ্গে কাজ করেছে: বিশ্বব্যাপী সন্তান জন্মদানের হার কমে যাওয়া এবং মানুষের প্রত্যাশিত গড় জীবনকাল বৃদ্ধি পাওয়া। এই দুই প্রবণতার মিলিত প্রভাবেই ঘটেছে বয়সভিত্তিক এই ঐতিহাসিক পরিবর্তন।
প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় সাড়ে দশ শতাংশ ছিলেন প্রবীণ নাগরিক। কিন্তু এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন গবেষকরা। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ২০৬০ সালের মধ্যে বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় সাড়ে উনিশ শতাংশ মানুষ হবেন প্রবীণ—যা বর্তমান হারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই দুটি প্রবণতা—জন্মহারের নিম্নগতি এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিজনিত দীর্ঘায়ু—একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়ে বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যার বয়স-কাঠামোতে একটি স্থায়ী পরিবর্তন এনে দিচ্ছে। এই পরিবর্তনের প্রভাব সীমাবদ্ধ থাকবে না কেবল পরিসংখ্যানের মধ্যে। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ, পেনশন ও অবসরভাতা ব্যবস্থার স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন এবং শ্রমবাজারে কর্মক্ষম জনশক্তির অনুপাত কমে যাওয়ার আশঙ্কা—এই তিন ক্ষেত্রেই ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, যেসব দেশে এই প্রবীণ জনসংখ্যার হার ইতিমধ্যে দ্রুত বাড়ছে, সেসব দেশকে আগেভাগেই স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার কাঠামো নতুন করে সাজাতে হবে। একই সঙ্গে কর্মক্ষম বয়সের মানুষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কমে যাওয়ায় অর্থনীতিতে উৎপাদনশীলতা বজায় রাখাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে আগামী দশকগুলোতে।

