সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগেই আলোচনার বড় অংশ জুড়ে ছিল উইকেট আর আবহাওয়া। মেঘলা আকাশ, সবুজ ঘাসে ঢাকা উইকেট এবং পেস বোলারদের জন্য আদর্শ পরিবেশ—সব মিলিয়ে ম্যাচ শুরুর আগেই বোঝা যাচ্ছিল, টস এখানে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ টসেই আবারও হাসল পাকিস্তানের মুখে।
পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ টসে জিতে কোনো দ্বিধা না করে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্টেও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। এবার সিলেটেও সেই পথেই হাঁটল পাকিস্তান।
বাংলাদেশের জন্য শুরুটা সহজ হবে না, সেটা আগেই অনুমান করা হচ্ছিল। কারণ গত কয়েক দিন ধরে সিলেটের উইকেট ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। উইকেটে ছিল তাজা ঘাসের আস্তরণ, আর সকালে আকাশজুড়ে ছিল ঘন মেঘ। এমন কন্ডিশন সাধারণত পেসারদের বাড়তি সুবিধা দেয়। নতুন বলে সুইং ও সিম মুভমেন্টের সুযোগ থাকায় ব্যাটারদের জন্য প্রথম সেশন হয়ে উঠতে পারে কঠিন পরীক্ষা।
প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল পেস আক্রমণ। তরুণ গতিতারকা নাহিদ রানা নিজের আগ্রাসী বোলিংয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দলে ফিরে দারুণ ছন্দে ছিলেন তাসকিন আহমেদ। তবে প্রথম টেস্টে ১৪ ওভার বল করেও উইকেটশূন্য ছিলেন এবাদত হোসেন। তাই দ্বিতীয় টেস্টে পরিবর্তন এনে একাদশে নেওয়া হয়েছে শরীফুল ইসলামকে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এমন কন্ডিশনে প্রথম এক-দেড় ঘণ্টা টিকে থাকাই হবে বাংলাদেশের ব্যাটারদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন বলে পাকিস্তানের পেস আক্রমণ আক্রমণাত্মক হতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে এই উইকেট বাংলাদেশের পেসারদের জন্যও পরে বড় অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।
এই সিরিজে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসের জায়গা অবশ্য সাম্প্রতিক ইতিহাস। ২০২৪ সালে পাকিস্তান সফরে রাওয়ালপিন্ডিতে টানা দুই টেস্ট জিতে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। সেই সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে আলোচনায় এসেছিল টাইগাররা। এবারও প্রথম টেস্ট জিতে সিরিজে এগিয়ে রয়েছে স্বাগতিকরা।
তাই সিলেট টেস্ট শুধু আরেকটি ম্যাচ নয়, বরং বাংলাদেশের সামনে ইতিহাস পুনরাবৃত্তির সুযোগও। মেঘলা সকাল আর কঠিন উইকেটের চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে টাইগাররা যদি বড় সংগ্রহ গড়তে পারে, তাহলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকেই টেনে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

