সিলেট টেস্টে দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। দ্বিতীয় দিনের শুরু থেকেই চাপ তৈরি করে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে ২৩২ রানে অলআউট করে ৪৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পেয়েছে স্বাগতিকরা।
প্রথম দিনের খেলা শেষে ব্যাটার লিটন দাস বলেছিলেন, দল এখন বোলারদের দিকে তাকিয়ে আছে। দ্বিতীয় দিনের সকালেই সেই আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন বাংলাদেশের পেসার ও স্পিনাররা।
দিনের দ্বিতীয় ওভারেই প্রথম আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। তার বল ব্যাট ছুঁয়ে উইকেটের পেছনে লিটনের হাতে ধরা পড়ে পাকিস্তানের ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজল। এরপর আরেক ওপেনার আজান ওয়াইসকেও ফিরিয়ে দেন তাসকিন। দেরিতে সুইং করা বল বুঝতে না পেরে শর্ট লেগে ক্যাচ দেন তিনি।
শুরুর ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন শান মাসুদ ও বাবর আজম। তবে বাংলাদেশের বোলাররা এক মুহূর্তের জন্যও চাপ কমতে দেননি।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত চমৎকার বোলিং পরিবর্তন এনে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন। মেহেদী হাসান মিরাজ আক্রমণে এসেই শান মাসুদকে ফিরিয়ে দেন। এরপর সৌদ শাকিলকেও চাপে ফেলে আউট করেন তিনি। উইকেটের পেছনে সহজ ক্যাচ নেন লিটন।
লাঞ্চের পর কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন বাবর আজম ও সালমান আগা। দুজনের জুটিতে আসে ৫৫ রান। বাবর টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩১তম ফিফটি পূর্ণ করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। নাহিদ রানা-র গতিময় ফুল লেংথ ডেলিভারিতে মিড অনে ক্যাচ তুলে ৬৮ রানে বিদায় নেন পাকিস্তানের তারকা ব্যাটার।
এরপর দ্রুত ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের মধ্যক্রম। তাইজুল ইসলাম একের পর এক উইকেট তুলে সফরকারীদের চাপে ফেলে দেন। সালমান আগা, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও হাসান আলী—সবাই তার শিকার হন।
চা বিরতির পর শেষ চেষ্টা করেছিলেন সাজিদ খান। কয়েকটি বড় ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত নাহিদ রানার বলেই তার ইনিংস থামে।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের বোলারদের দাপটে পাকিস্তান ২৩২ রানেই থেমে যায়। ফলে প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের মূল্যবান লিড নিয়ে ম্যাচে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে স্বাগতিকরা।

