দল হিসেবে শিরোপার স্বাদ পাওয়া হয়নি। ফাইনালের স্বপ্নও থেমে গেছে শেষ চারেই। কিন্তু ব্যক্তিগত অর্জনের বিচারে এবারের আইপিএল মৌসুমটি বৈভব সূর্যবংশীর জন্য রূপকথার মতোই। মাত্র ১৫ বছর বয়সে ব্যাট হাতে এমন দাপট দেখিয়েছেন যে পুরো টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আলোচিত ক্রিকেটারে পরিণত হয়েছেন তিনি।
রাজস্থানের হয়ে পুরো মৌসুমজুড়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে সূর্যবংশী শুধু রানই করেননি, গড়েছেন একের পর এক রেকর্ডও। তার ব্যাট থেকে এসেছে ১৬ ইনিংসে ৭৭৬ রান। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, তিনি এই রান করেছেন ২৩৭.৩০ স্ট্রাইক রেটে, যা আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মানদণ্ডেও অবিশ্বাস্য।
তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ভর করে রাজস্থান দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তবে গুরুত্বপূর্ণ সেই ম্যাচে গুজরাটের কাছে হেরে শিরোপা লড়াই থেকে ছিটকে পড়ে দলটি। ম্যাচ শেষে সূর্যবংশীর হতাশা এবং আবেগঘন প্রতিক্রিয়া ক্রিকেটপ্রেমীদেরও স্পর্শ করেছিল।
তবে টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে সেই হতাশা অনেকটাই দূর হয়ে যায়। কারণ একের পর এক সম্মাননা জিতে পুরো আসরের সবচেয়ে সফল ব্যক্তিগত পারফরমার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি।
এবারের আইপিএলে সূর্যবংশী যে পুরস্কারগুলো জিতেছেন—
মৌসুমসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার
পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক ও ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি মৌসুমসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।
অরেঞ্জ ক্যাপ
সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে তার মাথায় ওঠে অরেঞ্জ ক্যাপ। ৭৭৬ রান করে তিনি অন্য সব ব্যাটারকে ছাড়িয়ে যান।
উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার
মাত্র ১৫ বছর বয়সে এমন পরিণত ব্যাটিং দেখে তাকে মৌসুমের সেরা উদীয়মান ক্রিকেটারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
সেরা স্ট্রাইকারের পুরস্কার
অবিশ্বাস্য ২৩৭.৩০ স্ট্রাইক রেট তাকে এই পুরস্কার এনে দেয়।
সর্বাধিক ছক্কার পুরস্কার
পুরো মৌসুমে ৭২টি ছক্কা মেরে তিনি আরেকটি পুরস্কার নিজের করে নেন।
এই অর্জনের মধ্য দিয়ে সূর্যবংশী আইপিএলের ইতিহাসেও বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন। তিনি একই মৌসুমে মৌসুমসেরা খেলোয়াড় এবং উদীয়মান খেলোয়াড়—দুই পুরস্কারই জেতা ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী ক্রিকেটার।
শুধু তাই নয়, কিংবদন্তি ক্রিস গেইলের পর প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে তিনি একই মৌসুমে সর্বোচ্চ রান ও সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেট—দুই বিভাগেই শীর্ষে অবস্থান করেছেন। ছক্কার সংখ্যার দিক থেকেও গেইলের একটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ড অতিক্রম করেছেন তিনি।
অন্যদিকে বোলিং বিভাগে আধিপত্য দেখিয়েছেন কাগিসো রাবাদা। পুরো মৌসুমে ২৯ উইকেট নিয়ে তিনি জিতেছেন পার্পল ক্যাপ।
পুরস্কার গ্রহণের পর সূর্যবংশী বলেন, এই সাফল্যে তিনি গর্বিত এবং আনন্দিত। তবে এটিকে তিনি শেষ গন্তব্য মনে করছেন না। বরং ভবিষ্যতে আরও উন্নতি করে নিজেকে আরও বড় পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান।
তার মতে, এবারের আইপিএল তাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। চাপের মধ্যে খেলা, ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং দলের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তিনি। পাশাপাশি দীর্ঘ ক্যারিয়ার গড়তে হলে ফিটনেস ও চোটমুক্ত থাকার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করেন এই তরুণ ব্যাটার।

