বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরকে ঘিরে আলোচনা ইতোমধ্যেই তুঙ্গে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই পুরস্কারের মঞ্চে আধিপত্য ছিল লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। তবে সময়ের সঙ্গে ফুটবলের নতুন প্রজন্ম নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে, ফলে এবার ব্যালন ডি’অর লড়াইয়ে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন চিত্র।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে বিভিন্ন বিশ্লেষণ ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে প্রকাশিত শক্তির তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছেন তিনি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬৫ গোল করে দলকে একাধিক সাফল্য এনে দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ট্রফিহীন থাকার সমালোচনাও অনেকটাই ঝেড়ে ফেলেছেন এই স্ট্রাইকার। ফলে ব্যক্তিগত পুরস্কারের লড়াইয়ে বর্তমানে তাকেই সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন ফরাসি তারকা উসমান দেম্বেলে। মৌসুমের শুরুতে চোটের কারণে ছন্দ হারালেও পরে দারুণভাবে ফিরে আসেন তিনি। বিশেষ করে ইউরোপের বড় ম্যাচগুলোতে তার ম্যাচ নির্ধারণী পারফরম্যান্স নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, বিশ্বকাপে ভালো করতে পারলে তিনি ব্যালন ডি’অরের অন্যতম প্রধান দাবিদার হয়ে উঠতে পারেন।
তৃতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন স্পেনের বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামাল। মাত্র অল্প বয়সেই তিনি বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত খেলোয়াড়দের একজন। চলতি মৌসুমে ২৫ গোল ও ২০ অ্যাসিস্ট করে নিজের প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছেন। তবে কিছু চোটের সমস্যা তাকে কিছুটা পিছিয়ে দিতে পারে। তবুও বিশ্বকাপে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স করলে তার সম্ভাবনা আরও বাড়বে।
চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছেন যথাক্রমে ভিতিনহা ও মাইকেল ওলিসে। দুই খেলোয়াড়ই পুরো মৌসুমে ধারাবাহিক নৈপুণ্য দেখিয়ে নিজেদের ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। যদিও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তারা কম থাকেন, তবুও পারফরম্যান্সের বিচারে তারা পিছিয়ে নেই।
ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ব্যক্তিগতভাবে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়ে ৪৮ গোল করলেও বড় কোনো শিরোপা জিততে না পারায় ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন তিনি। তবে বড় মঞ্চে নিজের সামর্থ্য প্রমাণের অসংখ্য নজির রয়েছে তার। তাই বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে সাফল্য এনে দিতে পারলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে।
তবে এবারের তালিকার সবচেয়ে চমকপ্রদ নাম সম্ভবত লিওনেল মেসি। ইউরোপীয় ফুটবল ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে খেললেও তার প্রভাব কমেনি। ইন্টার মিয়ামির হয়ে ৩৬ গোল ও ২৬ অ্যাসিস্ট করে আবারও নিজের অসাধারণ ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, দলকে শিরোপাও জিতিয়েছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি আসন্ন বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে আবারও বড় সাফল্য এনে দিতে পারেন মেসি, তাহলে ইতিহাসে রেকর্ড নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের পথও তার জন্য খুলে যেতে পারে। বয়স বাড়লেও বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তার উপস্থিতি এখনো প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
সব মিলিয়ে এবার ব্যালন ডি’অরের লড়াই শুধু ক্লাব ফুটবলের অর্জনের ওপর নির্ভর করবে না। বিশ্বকাপের মতো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে কারা নিজেদের সেরাটা দেখাতে পারেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের ভাগ্য নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বকাপ যত এগিয়ে আসছে, ব্যালন ডি’অরের সমীকরণও ততই জটিল ও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠছে।

