বিশ্বজুড়ে ফুটবলকে ‘সুন্দর খেলা’ বলা হলেও সব ম্যাচ যে সমান রোমাঞ্চকর হয়, তা নয়। বিশেষ করে বড় টুর্নামেন্টগুলোতে অনেক দল হার এড়াতে রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেয়। ফলে কিছু ম্যাচ দর্শকদের কাছে একঘেয়ে মনে হতে পারে।
আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় শুরু হচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। ৪৮ দলের অংশগ্রহণে ১০৪ ম্যাচের এই আসর চলবে প্রায় সাড়ে ছয় সপ্তাহ। নিজের দেশের ম্যাচ নিয়ে উত্তেজনা থাকলেও নিরপেক্ষ দর্শকদের কাছে সব ম্যাচ সমান আকর্ষণীয় নাও হতে পারে। এই বাস্তবতা থেকেই ফুটবলকে আরও বিনোদনমূলক ও গতিশীল করার নানা ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
এর আগে আর্সেনালের সাবেক কোচ আর্সেন ভেঙ্গার অফসাইড নিয়মে পরিবর্তন এবং থ্রো-ইনের বদলে ‘কিক-ইন’ চালুর মতো প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে ব্রিটিশ সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ মনে করে, খেলাটিকে আরও আকর্ষণীয় করতে প্রয়োজন আরও সাহসী ও ব্যতিক্রমী চিন্তা। সেই ভাবনা থেকেই তারা কয়েকটি মজার ও অস্বাভাবিক প্রস্তাব সামনে এনেছে।
প্রস্তাবগুলোর একটি হলো, কোনো দল যদি একটি ম্যাচে তিনবার গোলপোস্ট বা ক্রসবারে বল লাগাতে পারে, তাহলে সেটিকে একটি গোল হিসেবে গণ্য করা হবে। এতে আক্রমণাত্মক ফুটবল আরও উৎসাহ পাবে বলে ধারণা করা হয়েছে।
আরেকটি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যেসব দেশের তারকা ফুটবলাররা বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পান না, তাদের নিয়ে একটি নিরপেক্ষ দল গঠন করা যেতে পারে। ফলে যোগ্যতা অর্জন করতে না পারা দেশের সেরা খেলোয়াড়দেরও বিশ্বমঞ্চে দেখা যাবে।
গোলকিপারদের ভূমিকা নিয়েও রয়েছে ব্যতিক্রমী ধারণা। ম্যাচ যত এগোবে, তত কমে আসবে তাদের হাত ব্যবহারের সুযোগ। এমনকি ইনজুরি সময়ে গিয়ে তারা কেবল মুখমণ্ডল ব্যবহার করে বল ঠেকাতে পারবেন— এমন কল্পনাপ্রসূত ধারণাও আলোচনায় এসেছে।
ফুটবলে চোটের ভান বা ‘ডাইভিং’ দীর্ঘদিনের বিতর্ক। এ সমস্যা কমাতে প্রস্তাব করা হয়েছে, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে চোটের অভিনয় করলে পরবর্তী ঘটনায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। উদ্দেশ্য হলো, অপ্রয়োজনীয় নাটকীয়তা কমানো।
সবচেয়ে অদ্ভুত প্রস্তাবগুলোর একটি হলো গ্যালারি থেকে লটারির মাধ্যমে একজন দর্শককে বেছে নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মাঠে নামিয়ে দেওয়া। তিনি কোন দলকে সমর্থন করেন, সেটিও গোপন থাকবে। এতে ম্যাচে অনিশ্চয়তা ও ভিন্ন মাত্রার বিনোদন যোগ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।
কর্নার কিক নিয়েও রয়েছে মজার ভাবনা। খেলোয়াড়দের চোখে পট্টি বেঁধে কর্নার নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে ডি-বক্সের ভেতরের ধাক্কাধাক্কি ও কাড়াকাড়ি কমে আসে।
এ ছাড়া, অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক বা বিরক্তিকর ফুটবল খেললে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিকে প্রতিপক্ষের পক্ষে পেনাল্টি দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। যদিও এটি পুরোপুরি কল্পনাপ্রসূত একটি ধারণা।
আরও একটি ব্যতিক্রমী প্রস্তাব হলো, একই সময়ে মাঠে দুটি বল দিয়ে খেলা পরিচালনা করা। এতে খেলাটির গতি ও বিশৃঙ্খলা দুটিই বাড়বে বলে ধারণা করা হয়েছে।
গোল উদযাপনকে উৎসাহিত করতেও রয়েছে অভিনব চিন্তা। কোনো ফুটবলার যদি অত্যন্ত সৃজনশীলভাবে গোল উদযাপন করেন, তাহলে তার আগের পাওয়া একটি হলুদ কার্ড বাতিল করে দেওয়ার সুযোগ রাখা যেতে পারে।
বাস্তবে এসব নিয়ম বিশ্বকাপে চালু হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে ফুটবলকে আরও আকর্ষণীয় ও বিনোদনসমৃদ্ধ করতে এমন সৃজনশীল আলোচনা খেলাপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করতে পারে।

