ফুটবল বিশ্বকাপ সবসময়ই বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্রীড়া আসর হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে শুধু গৌরব আর ট্রফির লড়াই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বিপুল অঙ্কের অর্থনৈতিক পুরস্কারও। আসন্ন বিশ্বকাপ সামনে রেখে তাই সবচেয়ে বেশি আলোচনা এখন চ্যাম্পিয়ন দলসহ অন্যান্য দলের প্রাইজমানি ঘিরে।
এবারের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো। ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আসর চলবে ৩৯ দিন, যেখানে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটিই হবে সবচেয়ে বড় পরিসরের টুর্নামেন্ট।
দল সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ম্যাচ বাড়ার ফলে এবার প্রাইজমানির পরিমাণও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারের বিশ্বকাপে মোট প্রাইজমানি দাঁড়িয়েছে ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ হাজার ৩২১ কোটি টাকা।
এই বিপুল অর্থ শুধু শিরোপাজয়ী দলের জন্য নয়, বরং পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে বিভিন্ন ধাপে অংশ নেওয়া সব দলের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ প্রতিটি পর্যায়ে সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে আয়ের পরিমাণও।
সবচেয়ে বড় অংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য। বিশ্বকাপ জেতা দল পাবে ৫০ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬১৩ কোটি টাকার সমান। রানার্সআপ দল পাবে ৩৩ মিলিয়ন ডলার। তৃতীয় স্থানে থাকা দল পাবে ২৯ মিলিয়ন ডলার, আর চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দল পাবে ২৭ মিলিয়ন ডলার।
নকআউট পর্বে উঠলেও থাকছে বড় অঙ্কের পুরস্কার। কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানো প্রতিটি দল পাবে ১৯ মিলিয়ন ডলার করে। রাউন্ড অব ১৬-তে পৌঁছানো দল পাবে ১৫ মিলিয়ন ডলার। আর রাউন্ড অব ৩২ থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোর জন্যও নির্ধারিত আছে ১১ মিলিয়ন ডলার করে।
এমনকি গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিলেও কোনো দল পুরোপুরি খালি হাতে ফিরবে না। প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দলকে অন্তত ৯ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে।
ফলে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলই আর্থিকভাবে লাভবান হবে, তবে চূড়ান্ত লক্ষ্য থাকবে শিরোপা জয়ের পাশাপাশি সর্বোচ্চ অর্থ পুরস্কার অর্জন করা।

