বিশ্ব ফুটবলের বড় আসর এলেই ফিরে আসে এক পরিচিত নাম—অক্টোপাস পল। ২০১০ বিশ্বকাপে ম্যাচের ফলাফল সঠিকভাবে অনুমান করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছিল এই সামুদ্রিক প্রাণী।
সেই স্মৃতি এবারও উসকে দিয়েছে বিভিন্ন দেশের চিড়িয়াখানা ও অ্যাকোরিয়ামের প্রাণীরা। কেউ বলছে স্পেন বিশ্বকাপ জিতবে, আবার কারও বিশ্বাস আয়োজক দেশ মেক্সিকোই শেষ পর্যন্ত ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে।
মেক্সিকোর গুয়াদালাজারা চিড়িয়াখানায় বিভিন্ন দলের পতাকা সামনে রেখে প্রাণীদের পছন্দ যাচাই করা হয়েছে। সেখানে দুটি ক্যাপিবারা নির্দ্বিধায় মেক্সিকোকেই ভবিষ্যৎ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বেছে নিয়েছে। তবে তাদের এই সিদ্ধান্ত দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে, নাকি পতাকার সঙ্গে ঝোলানো খাবারের প্রতি আকর্ষণ থেকে—সেটি অবশ্য রহস্যই রয়ে গেছে।
বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে স্পেনের নাম বারবার উঠে আসছে। চিড়িয়াখানার গরিলা ফউস্তিনাও সেই মতের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। তার বিশ্বাস, স্পেনই শিরোপা জিতবে। তবে গ্রুপ পর্বে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে তার সহচর চেঞ্চার মত আলাদা। ৩৯ বছর বয়সী এই গরিলার ধারণা, ২৭ জুনের লড়াইয়ে স্পেনকে হারাবে উরুগুয়ে। দুই গরিলাই নিজেদের পছন্দের দলের জার্সির প্রতিরূপ বেছে নিয়ে এমন ভবিষ্যদ্বাণী করেছে।
এদিকে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব এখন বেশ জমে উঠেছে। কিছু দল ইতোমধ্যে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে, আবার কয়েকটি দলের বিদায়ও নিশ্চিত হয়ে গেছে। এই অবস্থায় নানা প্রাণীর ভবিষ্যদ্বাণীও বাড়তি আগ্রহ তৈরি করছে। দুটি জিরাফের মতে, ‘কে’ গ্রুপে ডিআর কঙ্গো শক্তিশালী কলম্বিয়াকে হারাতে সক্ষম হবে। আগের ম্যাচে পর্তুগালের সঙ্গে ড্র করায় কঙ্গোর সামর্থ্যের প্রতি তাদের আস্থা আরও বেড়েছে।
মেক্সিকোর হাতিও আলোচনায় আছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচে মেক্সিকোর জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিল সে। পতাকার দিকে বল গড়িয়ে দিয়ে নিজের পছন্দ প্রকাশ করেছিল প্রাণীটি।
তবে সব ভবিষ্যদ্বাণী যে মিলছে, এমন নয়। ১৪ বছর বয়সী পুমা মুলুকের পূর্বাভাস ছিল, চেক প্রজাতন্ত্র দক্ষিণ কোরিয়াকে হারাবে। দুই দলের প্রতীকী কার্ডবোর্ডে ঝোলানো মাংসের মধ্যে চেক প্রজাতন্ত্রের দিকের মাংস বেছে নিয়েছিল সে কিন্তু বাস্তবের ফল হয় উল্টো। দক্ষিণ কোরিয়া ২-১ গোলে জয় পায়।
কানাডাতেও রয়েছে এক ‘ভবিষ্যদ্বক্তা’ গোল্ডফিশ। তার নাম সুইমবাপে, যা ফরাসি তারকা ফুটবলারের নাম থেকে অনুপ্রাণিত। অ্যাকোরিয়ামে রাখা দুটি দেশের পতাকার মধ্যে একটি বেছে নিয়ে সে ম্যাচের সম্ভাব্য ফল অনুমান করে। এখন পর্যন্ত ২০টি ম্যাচের মধ্যে ১০টির ফল সঠিকভাবে বলতে পেরেছে সুইমবাপে। জার্মানি, ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার জয়ের পূর্বাভাসও সে মিলিয়ে দিয়েছে।
ইংল্যান্ডের কেন্টের একটি বন্যপ্রাণী উদ্যানে চার মাস বয়সী শিম্পাঞ্জি জেনও আলোচনায় এসেছে। ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচের আগে তার সামনে দুই দেশের পতাকা রাখা হলে সে ইংল্যান্ডকে বেছে নেয়। পরে দেখা যায়, ইংল্যান্ড ৪-২ গোলে জয় পেয়েছে। ফলে জেনের ভবিষ্যদ্বাণীও সঠিক প্রমাণিত হয়।
ব্রাজিলে অবশ্য ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। রিও ডি জেনেইরোর একটি অ্যাকোরিয়ামের শার্ক রিতিনহা ব্রাজিলের জয় অনুমান করেছিল মরক্কোর বিপক্ষে। কিন্তু তার ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবের সঙ্গে মেলেনি। অন্যদিকে নিম্বুস নামের একটি বিড়াল ম্যাচটি ড্র হবে বলে যে পূর্বাভাস দিয়েছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত সঠিক হয়।
বিশ্বকাপ যত এগিয়ে যাবে, ততই বাড়বে এসব প্রাণীভিত্তিক ভবিষ্যদ্বাণীর সংখ্যা। তবে শেষ পর্যন্ত কার অনুমান সবচেয়ে বেশি মেলে, সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের কৌতূহলের নতুন বিষয় হয়ে উঠেছে।

