বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের শুরুতেই মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও এশিয়ার শক্তিশালী দল জাপান। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অনুষ্ঠিতব্য এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে যে দল জয় পাবে, তারা শেষ ষোলোতে নরওয়ে অথবা আইভরি কোস্টের বিপক্ষে খেলবে।
ম্যাচের আগে পরিসংখ্যানের বিচারে এগিয়ে রয়েছে ব্রাজিল। অপটা সুপার কম্পিউটার ২৫ হাজারবার ম্যাচটির সম্ভাব্য ফল বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা ৫৭ দশমিক ৭ শতাংশ। জাপানের জয়ের সম্ভাবনা ১৮ শতাংশ। আর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ।
গ্রুপ ‘সি’-এর চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পর হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে টানা ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে নকআউটে উঠেছে ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার পর থেকে টানা সাত গোল করেছে দলটি। এ সময়ে কোনো গোলও হজম করতে হয়নি। ২০০২ সালের বিশ্বকাপের পর এবারই প্রথম এমন ধারাবাহিক গোল করার কীর্তি গড়েছে সেলেসাওরা।
দীর্ঘ ৯৮১ দিন পর চোট কাটিয়ে জাতীয় দলে ফিরেছেন নেইমার। এই ম্যাচে খেলেই তিনি ব্রাজিলের হয়ে চারটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া মাত্র চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে নাম লেখালেন। তবে সাম্প্রতিক নকআউট ইতিহাস ব্রাজিলের জন্য খুব সুখকর নয়। শেষ ছয়টি নকআউট ম্যাচের চারটিতেই বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। যদিও ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের প্রথম নকআউট ম্যাচে আর কখনো হারেনি ব্রাজিল।
অন্যদিকে ইতিহাস বদলের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামছে জাপান। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখনো কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি দলটি। গ্রুপ ‘এফ’-এ নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের সঙ্গে ড্র এবং তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় হয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে হাজিমে মোরিয়াসুর দল।
অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দো ও তারকা উইঙ্গার কাওরু মিতোমা ইনজুরির কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না। তবু জাপান টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে একটি প্রীতি ম্যাচে তারা ব্রাজিলকেও হারিয়েছে।
জাপানের স্ট্রাইকার আয়াসে উয়েদা ইতোমধ্যে তিন গোল করে এক বিশ্বকাপে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ গোল-অবদানের যৌথ রেকর্ড গড়েছেন। এবারের আসরে জাপানের ১০ জন ভিন্ন খেলোয়াড় গোল অথবা অ্যাসিস্ট করেছেন, যা তাদের নতুন জাতীয় রেকর্ড।
ব্রাজিলের আক্রমণভাগও রয়েছে দুর্দান্ত ছন্দে। মাথেউস কুনিয়া চারটি অন-টার্গেট শট থেকে তিনটি গোল করেছেন। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র গ্রুপ পর্বে চার গোল করে রোনালদো, নেইমার ও জাইরজিনহোর কীর্তির পাশে নিজের নাম তুলেছেন। রাফিনিয়ার অনুপস্থিতিতে মাত্র ১৯ বছর বয়সী রায়ান স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাসিস্ট করে ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সর্বকনিষ্ঠ অ্যাসিস্টদাতা হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসেও এগিয়ে ব্রাজিল। ১৪টি সাক্ষাতের মধ্যে তারা জিতেছে ১১টিতে। দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে এবং জাপান জয় পেয়েছে মাত্র একবার। তবে সেই একমাত্র জয় এসেছে সর্বশেষ দেখায়।
গত অক্টোবরে টোকিওতে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় ব্রাজিল। ওই ম্যাচে জাপানের জয়সূচক গোলটি করেছিলেন আয়াসে উয়েদা। বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র সাক্ষাতে ২০০৬ সালে ব্রাজিল ৪-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল।

