আজ মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে ২০২৬-২৭ মৌসুমের উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ। নতুন মৌসুমে ৩৬ দলের লিগ পর্বের ফরম্যাটই থাকছে। প্রতিটি দল আটটি ভিন্ন দলের বিপক্ষে খেলবে—চারটি ম্যাচ নিজেদের মাঠে এবং চারটি প্রতিপক্ষের মাঠে।
লিগ পর্বের ম্যাচ শেষ হবে ২০২৭ সালের ২৭ জানুয়ারি। আর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৫ জুন, মাদ্রিদের আতলেতিকো মাদ্রিদের মাঠ এস্তাদিও মেট্রোপলিতানোতে।
নতুন মৌসুমে খেলায় সময় নষ্ট কমানো এবং ভিএআরের ব্যবহার আরও কার্যকর করতে বেশ কিছু নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
বদলি খেলোয়াড়ের জন্য ১০ সেকেন্ড
কোনো খেলোয়াড় বদলি হওয়ার পর সর্বোচ্চ ১০ সেকেন্ডের মধ্যে মাঠ ছাড়তে হবে। নির্ধারিত সময়ের বেশি নিলে নতুন খেলোয়াড়কে সঙ্গে সঙ্গে মাঠে ঢুকতে দেওয়া হবে না। খেলা আবার শুরু হওয়ার পর এক মিনিট পার হওয়ার পর প্রথমবার খেলা থামলেই তিনি মাঠে ঢুকতে পারবেন।
চিকিৎসা নিতে মাঠ ছাড়তে হবে এক মিনিটের জন্য
কোনো খেলোয়াড়ের চিকিৎসার কারণে খেলা বন্ধ হলে, খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর ওই খেলোয়াড়কে এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকতে হবে। তবে গোলরক্ষকদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। গোলরক্ষক ও অন্য কোনো খেলোয়াড় সংঘর্ষে আহত হলে এবং দুজনেরই চিকিৎসা প্রয়োজন হলেও ব্যতিক্রম থাকবে।
এ ছাড়া প্রতিপক্ষের ফাউলের কারণে খেলোয়াড় আহত হলে এবং ওই ঘটনায় প্রতিপক্ষ হলুদ বা লাল কার্ড পেলে, দুই সতীর্থ একই ঘটনায় আহত হলে কিংবা পেনাল্টি দেওয়া হলে এবং আহত খেলোয়াড়ই পেনাল্টি নিতে গেলে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
থ্রো-ইন ও গোলকিকে সময় নষ্ট করলে শাস্তি
থ্রো-ইন বা গোলকিক নিতে অযথা দেরি করলে প্রতিপক্ষ দলকে কর্নার দেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে রেফারি বল মাঠে ফেরানোর জন্য পাঁচ সেকেন্ডের কাউন্টডাউন দেবেন।
ভিএআরে নতুন পরিবর্তন
ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দিলে ভিএআর দেখবে
রেফারি কোনো অপরাধের জন্য ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড বা অন্য শাস্তি দিলে ভিএআর এখন সেটি পর্যালোচনা করতে পারবে। তবে অপরাধটি আদৌ ফাউল ছিল কি না, সেটি পর্যালোচনা করা যাবে না। শুধু সঠিক খেলোয়াড়কে শনাক্ত করা হবে।
ভুল দ্বিতীয় হলুদ কার্ডও পর্যালোচনা করা যাবে
কোনো খেলোয়াড়কে স্পষ্টভাবে ভুলভাবে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দিলে ভিএআর বিষয়টি পর্যালোচনা করতে পারবে। প্রয়োজন হলে রেফারিকে মাঠের পাশে গিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া হবে। সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণিত হলে হলুদ কার্ড বাতিল করে খেলোয়াড়কে মাঠে রাখা যাবে।
ফ্রি-কিক বা কর্নারের আগে আক্রমণকারী দলের অপরাধ
ফ্রি-কিক বা কর্নার নেওয়ার আগে আক্রমণকারী দল স্পষ্ট কোনো অপরাধ করলে এবং সেটির সরাসরি প্রভাব গোল, পেনাল্টি বা অন্য কোনো শাস্তির ওপর পড়লে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারবে। এমন ক্ষেত্রে গোল বা পেনাল্টি বাতিল করে ফ্রি-কিক বা কর্নার আবার নিতে হবে।
গোলকিকের পর হাতে বল লাগলে পেনাল্টি
গোল এরিয়ার ভেতর বল স্থির থাকা অবস্থায় কোনো খেলোয়াড় সেটি কিক করলে গোলকিক নেওয়া হয়েছে বলে ধরা হবে। এরপর গোলরক্ষকের সতীর্থ ইচ্ছাকৃতভাবে পেনাল্টি এলাকার ভেতর হাতে বা বাহু দিয়ে বল স্পর্শ করলে পেনাল্টি দেওয়া হবে।
আরও কিছু নিয়ম
ভুলভাবে কর্নার দেওয়া হলে শুধু খুব স্পষ্ট ভুলের ক্ষেত্রে সেটি দ্রুত পর্যালোচনা করে গোলকিক দেওয়া যাবে। তবে ভুলভাবে দেওয়া গোলকিককে কর্নারে পরিবর্তন করা যাবে না।
কোনো খেলোয়াড় প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলার সময় মুখ ঢেকে রাখলেই তাকে লাল কার্ড দেখানো হবে না। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে যোগাযোগ লুকানোর চেষ্টা করলে রেফারি সেটিকে অসদাচরণ হিসেবে বিবেচনা করে হলুদ কার্ড দেখাতে পারেন। প্রয়োজনে পরে শাস্তিমূলক তদন্তও হতে পারে।
এ ছাড়া কোনো খেলোয়াড় প্রতিবাদ হিসেবে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে গেলে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হবে না। তবে একটি দলের খেলোয়াড় সংখ্যা সাতের নিচে নেমে গিয়ে ম্যাচ চালানো অসম্ভব হলে সংশ্লিষ্ট দল ম্যাচে হেরে যেতে পারে।

