সর্বকালের সেরা ফুটবলার কে—লিওনেল মেসি নাকি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো? ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের এই বিতর্কে এবার নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ব্যালন ডি’অরের বিশেষ এক ভোটাভুটিতে মেসিকে পেছনে ফেলে জয়ী হয়েছেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
বুধবার রাতে ব্যালন ডি’অরের ওয়েবসাইটে রোনালদোকে ‘ব্যালন ডি’অর অব অল টাইম’ প্রতিযোগিতার বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তবে এটি কোনো আনুষ্ঠানিক পুরস্কার নয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বিজয়ীকে দেওয়ার জন্য কোনো স্মারকও থাকবে না।
এই ভোটাভুটিতে সমর্থকেরা তাঁদের পছন্দের খেলোয়াড়ের পুরো কর্মজীবন নয়, বরং ব্যালন ডি’অর জেতা নির্দিষ্ট মৌসুমের পারফরম্যান্স বেছে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। প্রতিটি ভোট দিতে খরচ হয়েছে এক ইউরো।
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন ১০ কিংবদন্তি
এই বিশেষ আয়োজনের তালিকায় ছিলেন ফুটবল ইতিহাসের ১০ কিংবদন্তি। মেসি ও রোনালদোর পাশাপাশি ছিলেন ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও, নেদারল্যান্ডসের মার্কো ফন বাস্তেন, ফ্রান্সের মিশেল প্লাতিনি, জার্মানির কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে, ইংল্যান্ডের কেভিন কিগান, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, ইয়োহান ক্রুইফ এবং আলফ্রেডো ডি স্টেফানো।
এই ১০ ফুটবলারের ব্যালন ডি’অরজয়ী বিভিন্ন মৌসুম থেকে মোট ৩২টি মৌসুমকে ভোটের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালিকার শীর্ষ অবস্থানগুলোতে মেসি ও রোনালদোর আধিপত্য ছিল। রোনালদোর ২০০৮ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুমটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। অন্যদিকে, মেসির আটটি ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুমের সাতটিই তালিকার শীর্ষ ১২ অবস্থানের মধ্যে ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আনুষ্ঠানিক পুরস্কার নয়, সমর্থকদের ভোটে জয়
এই আয়োজনের ফলাফল মূলত সমর্থকদের পছন্দের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছে। ভোট দেওয়ার জন্য অর্থ খরচ করতে হওয়ায় এটি সাধারণ বিনা মূল্যের জনমত জরিপের মতো ছিল না। ফলে এই ফলাফলকে আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বকালের সেরা ফুটবলার নির্ধারণের স্বীকৃতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তবু মেসি ও রোনালদোর দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে এই ভোটাভুটি ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তৈরি করেছে। মাঠের পারফরম্যান্স, ব্যক্তিগত অর্জন এবং সমর্থকদের জনপ্রিয়তা—সব মিলিয়ে দুই তারকাকে ঘিরে আলোচনা আবারও সামনে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও তালিকার ১৫তম অবস্থানে ছিলেন। তবে এই বিশেষ ভোটাভুটির ফলাফল কোনো আনুষ্ঠানিক পুরস্কার বা স্বীকৃত সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়ের তালিকা নয়; এটি সমর্থকদের অর্থের বিনিময়ে দেওয়া ভোটের ফল।

