আগামী ডিসেম্বরে ভারতে জুনিয়র বিশ্বকাপ (অনুর্ধ্ব-২১) হকিতে খেলবে সাত দেশ। সেখানে বাংলাদেশ নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে। দেশের হকি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জুনিয়র বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের পর অনূর্ধ্ব-২১ দলকে শুধু শুভেচ্ছা বার্তাতেই যেন দায়সার।ওমান থেকে দেশে ফেরা দলটিকে গতকাল বিমানবন্দরে বরণ করতে ফেডারেশনের কিছু কর্মকর্তা ছাড়া ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাউকে দেখা যায়নি।
দেশের হকিতে এমন অর্জন আর আসেনি। ৫৩ বছর হয়ে গেল দেশের স্বাধীনতা এসেছে। দেশের খেলাধুলার প্রসার ঘটেছে। কিন্তু হকিতে কোয়ালিফাই করে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ আসছিল না। ১৯৮৪ সাল থেকে জুনিয়র বিশ্বকাপের বাছাই খেলে আসছিল বাংলাদেশ। কোনোবারই যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। অধরা স্বপ্ন বারবার হাত ফসকে যাচ্ছিল। বারবার ব্যর্থ মনে ফিরে আসতে হয়েছিল। এবার সেই স্বপ্নের চূড়ায় উঠতে পেরেছেন বাংলার যুবারা।
বিমানবাহিনীর ফ্যালকন হলে মেহেরাব হাসান সামিন-আমিরুজ্জামানদের সংবর্ধনা দেওয়ার সঙ্গে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে পুরো দলকে ৫ লাখ টাকা অর্থ পুরস্কার দেন হকি ফেডারেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।
দলের ১৮ খেলোয়াড়, ৩ কোচ-কর্মকর্তা মিলিয়ে ২১ জনকে ভাগ করে দেওয়া হবে এই অর্থ। তাতে জনপ্রতি ২৩ হাজার ৮০৯ টাকা করে পাচ্ছেন; যে অর্থ খেলার জন্য পায়ে দেওয়া এক জোড়া জুতার মূল্যের (২৫ হাজার) চেয়েও কম! হকি ফেডারেশনের বাইরে সরকারের কোনো পর্যায় কিংবা কোনো সংস্থা থেকেও জুনিয়র হকি দলের জন্য কিছু করার উদ্যোগ নেই। তাহলে কি হকির বিশ্বকাপের মূল্য বোঝে না দেশের ক্রীড়াঙ্গন।
নিজেদের এই দুঃখের কথা বলতে গিয়ে বড় নিঃশ্বাস ফেলেছেন জুনিয়র এশিয়া কাপে ৭ গোল করা রাকিবুল হাসান, ‘ক্রিকেটের পর হকি দল বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। আপনি দেখেন জুনিয়র কিংবা সিনিয়র কোনো পর্যায়ে ফুটবল দল বিশ্বকাপে খেলেনি। অবশ্যই সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সংবর্ধনা আশা করতেছি।’
রাকিবুলের এই আশার কথাটি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল রিয়াজুল হাসানের কানে দিলে অজ্ঞাত সুরে এভাবে জবাব দেন, ‘তিনি (সভাপতি) তো বলেছেন ক্রীড়া উপদেষ্টাকে এই অর্জনের কথা জানিয়েছেন। এর বাইরে এখনও কিছু বলতে পারব না। ছেলেরা ছুটি থেকে আসুক, তার পর দেখা যাবে।’
ক্রিকেটের পর হকিই বাংলাদেশের দ্বিতীয় খেলা, যারা কিনা বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। ফুটবলের সাফল্য দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডিতেই। অথচ জুনিয়র এই হকি দল শক্তিশালী মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করে এশিয়া কাপে ১০ দলের মধ্যে হয়েছে পঞ্চম। ভারতে অনুষ্ঠেয় ২০২৫ বিশ্বকাপে ৩৪টি দেশের একটি বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে খেলা আর একটি অঞ্চলের সেরা হওয়ার মধ্যে বিস্তর তফাত। সেই পার্থক্যই হয়তো নির্ণয় করতে পারেনি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন।

