বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের অন্যতম সদস্য মাতসুশিমা সুমাইয়া হত্যার ও ধর্ষণের হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ তথ্য জানান।
জাপানি মা ও বাংলাদেশি বাবার সন্তান সুমাইয়া জাতীয় দলে খেলছেন দীর্ঘদিন ধরে। ২০২৪ সালের সাফজয়ী নারী ফুটবল দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি।

সম্প্রতি নারী দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের একটি অংশ জাতীয় দলের কোচ পিটার বাটলারের অপসারণের দাবিতে আন্দোলন করছেন। বিদ্রোহী খেলোয়াড়দের মধ্যে আছেন সুমাইয়াও। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই তিনি হুমকির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।সুমাইয়া তার পোস্টে লিখেছেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। আমার নাম মাতসুশিমা সুমাইয়া। আমি বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়। স্কুল থেকে ফুটবলে হাতেখড়ি। এরপর মালদ্বীপে লিগ জিতেছি, সর্বশেষ ২০২৪ সালে সাফ শিরোপা জয় করি। আমার এ যাত্রার অভিজ্ঞতা ছিল অম্লমধুর। এ পথ বেছে নেয়ার পর আমি সেই সব শিশুদের অনুপ্রেরণা জোগাতে চেয়েছি যাদের বাবা-মা চান তাদের সন্তান যেন শুধুই পড়াশোনায় মনোযোগী হয়। এ দেয়াল যাতে ভাঙা যায় সেটি করতে আমি নিরন্তর চেষ্টা করে গেছি। কিন্তু আজ আমি অত্যন্ত বেদনার্ত। অনুতাপ করছি এজন্য যে নিজের পড়াশোনা, পরিবার, ঈদের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে যে দেশের সেবা করতে চেয়েছি সেই দেশ আপনার প্রশংসা করতে জানে না।’
তিনি আরো লিখেছেন, ‘বাবা-মায়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমি ফুটবলকে বেছে নিয়েছি। বিশ্বাস ছিল, দেশ আমার পাশে দাঁড়াবে। কিন্তু বাস্তবতা তো ভিন্ন। কেউই একজন খেলোয়াড়ের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেয় না, তাদের কথা ভাবে না। আমি ও আমার সতীর্থরা গত কয়েকদিন ধরে কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছি তা ইংরেজিতে লিখে বুঝানোর মতো সামর্থ্য আমার আছে। গত কয়েকদিন ধরে আমি অসংখ্যবার হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি পেয়ে এসেছি, যা আমি কল্পনাও করতে পারি না।’
পোস্টের একেবারে শেষ দিকে তিনি লিখেছেন, ‘জানি না এই মানসিক ক্ষত কাটিয়ে উঠতে আমার কতদিন লাগবে। কিন্তু আমি এটা জানি যে, কারোরই তার স্বপ্নপূরণের পথে চলতে গিয়ে এমন পরিস্থিতিতে পড়া মোটেও কাম্য নয়।’
উল্লেখ্য, ২০০১ সালে জাপানের নাগোয়ায় জন্ম নেওয়া সুমাইয়া চার বছর বয়সে বাংলাদেশে আসেন এবং ২০০৮ সালে এখানেই স্থায়ী হন। তার মা মাতসুশিমা তমোমি ও বাবা মাসুদুর রহমান।

