টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি ও প্রতিরোধযোগ্য রোগের পুনরাবির্ভাব বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা জীবাণুর ওষুধ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য গবেষণা সংশ্লিষ্ট একটি প্ল্যাটফর্ম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভবিষ্যতের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক পলিসি ব্রিফে বলা হয়, টিকা শুধু সংক্রামক রোগ প্রতিরোধেই নয়, বরং অ্যান্টিবায়োটিকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে টিকাদান বাড়ানো হলে জীবাণুর ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে ওঠার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
ব্রিফটি তৈরি করেছে ওয়ান হেলথ ট্রাস্ট এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা আইসিডিডিআর,বি’র নেতৃত্বাধীন গ্লোবাল অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স পার্টনারশিপ। এতে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দশকে বিশ্বজুড়ে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের কারণে কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। বাংলাদেশেও ইতোমধ্যে এ ধরনের সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে হামের বড় প্রাদুর্ভাবের কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন এবং টিকার প্রতি আস্থার ঘাটতির কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি দুর্বল হলে কয়েক দশকের অর্জন দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে শিশুদের মধ্যে প্রতিরোধযোগ্য রোগ আবারও ফিরে আসার ঝুঁকি তৈরি হয়। গবেষণার সঙ্গে যুক্ত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা প্রতিটি সংক্রমণই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের চাপ কমায়। ফলে ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণু বিস্তারের সুযোগও সীমিত হয়।
ব্রিফে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে অতীতে নবজাতকের ধনুষ্টংকার, পোলিও ও রুবেলার মতো রোগ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে এসব অর্জন স্থায়ী নয়, বরং নিয়মিত নজরদারি ও টিকাদান বজায় রাখা জরুরি।
এতে নীতিনির্ধারকদের জন্য কয়েকটি সুপারিশও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিশুদের টিকাদান কভারেজ আরও শক্তিশালী করা, কার্যকর নতুন টিকা ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো এবং জাতীয় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ কৌশলে টিকাদানকে আরও গুরুত্ব দেওয়া। বিশেষভাবে নিউমোকক্কাল, টাইফয়েড ও রোটাভাইরাস টিকা কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা শিশুদের সংক্রমণ ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান ব্যবস্থাকে জনস্বাস্থ্যের কেন্দ্রীয় কৌশল হিসেবে গুরুত্ব না দিলে ভবিষ্যতে চিকিৎসা ব্যয় বাড়বে এবং ওষুধ-প্রতিরোধী সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

