দেশে হাম ও হামের উপসর্গে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে ৫০০-এর কাছাকাছি পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ শিশুর মৃত্যুর খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে দুই শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছিল, আর বাকি নয়জন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে।
সব মিলিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯৯ জনে। এর মধ্যে ৮৫ জনের মৃত্যুর ক্ষেত্রে হাম নিশ্চিত হয়েছে। বাকি ৪১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে উপসর্গ নিয়ে।
শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত এক দিনে নতুন করে ৫৪ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৩২৯ জনে।
একই সময়ে আরও ১ হাজার ২৬১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। ফলে মোট সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ৬০ হাজার ৫৪০ জনে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংখ্যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাই তুলে ধরছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও রংপুর বিভাগে একজন করে এবং সিলেটে পাঁচজনের।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুদের টিকাদান কাভারেজে ঘাটতি, অপুষ্টি এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে আক্রান্ত শিশুদের অনেকেই হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সংকটাপন্ন হয়ে পড়ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হওয়ায় দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। তাঁরা শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসার ওপর জোর দিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, আক্রান্ত এলাকা চিহ্নিত করে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম ও সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে। তবে সংক্রমণের গতি বিবেচনায় পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শিশুদের জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে। একই সঙ্গে হাম প্রতিরোধে টিকা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই বলেও তারা সতর্ক করেছেন।

