দেশজুড়ে আবারও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে হামের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নতুন এই মৃত্যুর ঘটনায় চলতি বছরে দেশে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭৫ জনে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরও ৬৭৪ জন রোগী।
শুক্রবার প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করে ৫৮ জনের শরীরে হাম ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে অন্তত ৯০ শিশু। এছাড়া হামের মতো উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৪৮৫ জন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপসর্গভিত্তিক মৃত্যুর এই সংখ্যা পরিস্থিতির গভীরতা আরও স্পষ্ট করছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ মে পর্যন্ত সারা দেশে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৮ হাজার ৯৪৩ জনে। তবে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। এখন পর্যন্ত মোট ৬৮ হাজার ৫৭৯ জনকে হাম আক্রান্ত বা হামসদৃশ উপসর্গে শনাক্ত করা হয়েছে।
এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫১ হাজার ৫১১ জন। বাকিরা দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিশেষ করে শিশু ও অপুষ্টিতে ভোগা রোগীদের মধ্যে জটিলতা বাড়ছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি, জনসচেতনতার অভাব এবং শিশুদের অপুষ্টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। অনেক এলাকায় আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে আনতেও দেরি হচ্ছে। ফলে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও জ্বরজনিত জটিলতায় মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত একজন শিশুর মাধ্যমে খুব দ্রুত অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনাই বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের শিশুদের জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
ক্রমাগত বাড়তে থাকা সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর নতুন চাপ তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী সপ্তাহগুলোতে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে।

