দেশে শিশুদের জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন দীর্ঘ ১৪ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে, কারণ হিসেবে মূলত ক্যাপসুল সংকটকে দায়ী করা হচ্ছে। সর্বশেষ এই কর্মসূচি হয়েছিল গত বছরের মার্চে। নিয়ম অনুযায়ী বছরে দুইবার এই ক্যাম্পেইন পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও পরপর দুটি ধাপই স্থগিত হয়ে গেছে।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইউনিসেফ থেকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল সংগ্রহে বিলম্ব হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। গত মার্চ ও সেপ্টেম্বরের পাশাপাশি চলতি বছরের মার্চেও ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সরবরাহ না থাকায় তা স্থগিত রাখতে হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, জুনের মধ্যে নতুন করে এক কোটি ছাড়িয়ে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল দেশে পৌঁছাবে এবং এরপর দ্রুত ক্যাম্পেইন শুরু করা হবে। তবে নির্ধারিত সময়েও ক্যাপসুল না আসায় কর্মসূচি পিছিয়ে যায়।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ক্যাপসুল হাতে পাওয়ার পর জুনের শেষ সপ্তাহে বা ২৭ জুনের মধ্যে ক্যাম্পেইন শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, সরবরাহ নিশ্চিত হলে দ্রুত দেশের প্রায় আড়াই কোটি শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
ভিটামিন-এ ক্যাপসুল সাধারণত ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে শিশুদের দৃষ্টিশক্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং পুষ্টি পরিস্থিতি উন্নত করার লক্ষ্য থাকে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কর্মসূচি শিশুদের রাতকানা রোগ, সংক্রমণজনিত অসুস্থতা এবং অপুষ্টিজনিত জটিলতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘ সময় ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকলে শিশুদের ভিটামিন-এ ঘাটতি বেড়ে যেতে পারে, যা দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হওয়া, সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে হাম ও ডায়রিয়ার মতো রোগে জটিলতা বাড়ার আশঙ্কাও থাকে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে রাতকানা রোগ অনেক আগেই নিয়ন্ত্রণে এলেও ভিটামিন-এ ঘাটতি এখনো বড় একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু এই ঘাটতির ঝুঁকিতে রয়েছে।
কর্মসূচি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা এটিকে একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, নিয়মিত ক্যাম্পেইন না চললে অর্জিত সাফল্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের সংখ্যা আবার বাড়তে পারে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, সরবরাহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুতই ক্যাম্পেইন পুনরায় শুরু করা হবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

