সাম্প্রতিক একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়িয়েছেন ডা. শেখ মহিউদ্দিন। তার স্থলে নতুন নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অধ্যাপক জামালুন্নেসা।
মঙ্গলবার ফাউন্ডেশনের পরিচালক (কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স) স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিকতা ও কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, সম্প্রতি আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঘটে যাওয়া শিশু মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটি গভীরভাবে মর্মাহত। ঘটনার পর প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার কিছু অভিযোগ উঠে আসায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তদারকি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
একই সঙ্গে হাসপাতালের বিভিন্ন প্রটোকল পুনর্মূল্যায়ন ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো পর্যালোচনার কাজ চলছে বলে জানানো হয়েছে। রোগীসেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত শনাক্ত করে সংশোধনের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও গ্রহণ করা হচ্ছে।
নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক জামালুন্নেসা দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাজ্যের একটি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানে। একাডেমিক ও গবেষণামূলক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি এখন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ফাউন্ডেশন সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা আরও সুসংহত করতে ইতোমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সেবার মান উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা প্রটোকল শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের ভেতরের কিছু অনিয়ম চিহ্নিত করে সেগুলো সংশোধনের কাজও শুরু হয়েছে।
অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, নার্সিং ইনস্টিটিউট এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্প রয়েছে, যা বিশেষ করে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখছে।
ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, সাম্প্রতিক ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটি অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, চিকিৎসা নিরাপত্তা এবং সেবার মান আরও উন্নত করার বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এই নেতৃত্ব পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে আস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং মানোন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হলে ভবিষ্যতে রোগীসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

