মাত্র ১৭ বছর বয়সে এমন এক উদ্ভাবনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় উঠে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের শিক্ষার্থী ডাসিয়া টেইলর। তিনি এমন একটি স্বল্পমূল্যের অস্ত্রোপচারের সেলাইয়ের সুতা তৈরি করেছেন, যা ক্ষতস্থানে সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে নিজেই রং পরিবর্তন করে সতর্ক সংকেত দিতে পারে।
এই উদ্ভাবনের পেছনে ছিল একটি বাস্তব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা। ডাসিয়া জানতে পারেন, বিশ্বের অনেক রোগীর জন্য উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তির ব্যয় বহন করা কঠিন। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষ ও সীমিত স্বাস্থ্যসেবা সুবিধাসম্পন্ন অঞ্চলে সংক্রমণ দ্রুত শনাক্ত করা বড় চ্যালেঞ্জ। সেই বাস্তবতা থেকেই তিনি কম খরচে কার্যকর একটি সমাধান তৈরির উদ্যোগ নেন।
হাই স্কুলে পড়াশোনার সময় তিনি বিটরুটের রস ব্যবহার করে বিশেষভাবে রঞ্জিত অস্ত্রোপচারের সেলাইয়ের সুতা তৈরি করেন। এই সুতার বৈশিষ্ট্য হলো, ক্ষতস্থানে সংক্রমণ শুরু হলে এটি রং বদলে চিকিৎসক ও রোগীকে সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে আগাম ধারণা দিতে পারে।
এর পেছনে রয়েছে একটি বৈজ্ঞানিক কারণ। সংক্রমণ দেখা দিলে ক্ষতস্থানের অম্ল-ক্ষার ভারসাম্য বা পিএইচ পরিবর্তিত হয়। সেই পরিবর্তনের প্রভাবে বিটরুটের রসে রঞ্জিত সুতার উজ্জ্বল লাল রং ধীরে ধীরে গাঢ় বেগুনি রঙে পরিণত হয়। এই দৃশ্যমান পরিবর্তন সংক্রমণ দ্রুত শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে, ফলে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করার সুযোগ বাড়ে।
ডাসিয়ার উদ্ভাবনের অন্যতম শক্তি হলো এর কম উৎপাদন ব্যয়। তিনি এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করতে চেয়েছেন, যা ব্যয়বহুল চিকিৎসা সরঞ্জামের বিকল্প হিসেবে স্বল্প সম্পদের স্বাস্থ্যব্যবস্থাতেও ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে। তার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে ভূমিকা রাখতে পারে।

