দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১০৫ জন। এতে গত মার্চের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া এ প্রাদুর্ভাবে মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২৫ জনে।
সোমবার (২৭ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামের নিয়মিত পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া হামে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচজনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৭৩০ শিশু। এছাড়া পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৫ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। সব মিলিয়ে এই সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে ৮২৫ জনে পৌঁছেছে।
একই সময়ে নতুন করে হাম ও উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১০৫ জন। এর ফলে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৭৪৫ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৫৫৫ জন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যাও ক্রমাগত বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭ হাজার ৬৫৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১ লাখ ৩ হাজার ৪৬৭ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বাকি রোগীরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ, হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সময়মতো টিকা গ্রহণ, আক্রান্ত ব্যক্তিকে পৃথক রাখা, শিশুদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব এলাকায় টিকাদানের হার তুলনামূলক কম, সেখানে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। এজন্য নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি, দ্রুত রোগী শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, শিশুদের জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া কিংবা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে যোগাযোগ করতে। একই সঙ্গে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত সময়ে শিশুদের হাম প্রতিরোধী টিকা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

