দেশে হামের প্রাদুর্ভাব কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। ফলে চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেড়েছে।
বুধবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হাম পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ঢাকা বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর প্রাণহানি ঘটে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম এবং হামের উপসর্গে মোট ৮৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে ৯৫ জনের ক্ষেত্রে পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া ৭৩৫ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। বাকি একটি মৃত্যুর তথ্য যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে মোট সংখ্যার সঙ্গে পার্থক্য দেখা যেতে পারে।
একই সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৭৫ জন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা সংক্রমণ পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করা, দ্রুত রোগ শনাক্ত করা এবং আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিভাবকদের শিশুদের টিকার পূর্ণ ডোজ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা হামের অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি, রোগী শনাক্তকরণ এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামের বিস্তার রোধে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

