নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. আবু মুহাম্মদ জাকির হোসেন। সোমবার (৩ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
চিঠিতে ট্রাস্ট পরিচালনায় বিদ্যমান নানা প্রশাসনিক জটিলতা ও অনিয়মের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন জাকির হোসেন। তাঁর অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাঁকে স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে দিচ্ছেন না।
পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাঁকে এই পদে নিয়োগ দিয়েছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর থেকে ট্রাস্টের বোর্ড আর পুনর্গঠন না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা এখন নীতিগত, আর্থিক ও অবকাঠামোগত নানা সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বিভ্রান্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া সার্বক্ষণিক ব্যবস্থাপনা পরিচালক দাবি করছেন যে সভাপতির দায়িত্বের মেয়াদ ছিল মাত্র তিন মাস, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই যুক্তি দেখিয়েই তাঁকে কোনো কার্যক্রমে যুক্ত হতে দেওয়া হচ্ছে না বলে তাঁর অভিযোগ। অথচ তাঁর ভাষ্যমতে, ট্রাস্টের আইন অনুযায়ী প্রতিটি পদের নিয়োগ মেয়াদ তিন বছর নির্ধারিত। এ ছাড়া তিনি আরও অভিযোগ করেন, ট্রাস্টের বিধান লঙ্ঘন করে একজন কর্মরত অতিরিক্ত সচিবের পরিবর্তে একজন অবসরপ্রাপ্ত সচিবকে সব সুযোগ-সুবিধাসহ ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে বসানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমানে ট্রাস্টে কোনো নিয়মিত চিকিৎসক কর্মকর্তা নেই, শুধু প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমেই এটি পরিচালিত হচ্ছে।
চিঠিতে জাকির হোসেন এই ট্রাস্টকে পূর্ববর্তী সরকারের একটি ত্রুটিপূর্ণ ও ক্ষতিকর উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি জানান, ইতিপূর্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারীকেও তিনি এই ট্রাস্ট–সংক্রান্ত আইনটি সম্পূর্ণ বাতিলের পরামর্শ দিয়েছিলেন।
বর্তমান পদে আর না থাকার সিদ্ধান্ত নিলেও সরকারের যেকোনো জনস্বাস্থ্যবিষয়ক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে ভবিষ্যতে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত থাকার কথাও চিঠিতে জানান ড. জাকির হোসেন।
উল্লেখ্য, ড. আবু মুহাম্মদ জাকির হোসেন এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক উপদেষ্টা, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা ও রোগ নিয়ন্ত্রণ পরিচালক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের স্টাফ কনসালট্যান্ট এবং স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

