দেশে হাম পরিস্থিতির উন্নতির কোনো লক্ষণ এখনো স্পষ্ট নয়। গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আটটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আর একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় আটশ শিশু। শনিবার বিকেলে প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সকাল আটটা পর্যন্ত হিসাব করা এই চব্বিশ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আট শিশুর, তবে এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশজুড়ে মোট মৃত্যু হয়েছে আটশ তিনজন শিশুর, আর নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও নিরানব্বই শিশু। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গজনিত কারণে সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে মোট নয়শ দুই শিশু।
একই চব্বিশ ঘণ্টায় সত্তরটি শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে আরও সাতশ আটাশটি শিশু। এই সময়ে হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে সাতশ শিশু, আর সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে পাঁচশ ঊনপঞ্চাশটি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামগ্রিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ একচল্লিশ হাজার সাতশ ছিয়াত্তরে, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা সতেরো হাজার আটশতে। এই পুরো সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট এক লাখ তেইশ হাজার চারশ চুরানব্বই শিশু, যাদের মধ্যে এক লাখ ঊনিশ হাজার নিরাশি শিশু সুস্থ হয়ে ইতিমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
চলমান এই পরিস্থিতি দেশের শিশু স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞরা বারবার বলে আসছেন, টিকাদান কার্যক্রমের পরিধি ও কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা ছাড়া এই প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হতে পারে।

