রাজধানীর উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুরু হচ্ছে ব্যাপক পরিসরের বিশেষ অভিযান। বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিদর্শন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে চব্বিশটি দলে বিভক্ত হয়ে মাঠে নামছেন প্রায় দেড় হাজার কর্মী।
জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আজ সকালে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার পরপরই এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হবে। একই দিনে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে একটি তথ্যকেন্দ্রও স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে নগরবাসীর জন্য ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিভিন্ন করণীয় ও সচেতনতামূলক তথ্য তুলে ধরা হবে।
দিবসটি উপলক্ষে সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ একটি বিশেষ মশক নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরপরই সংসদ ভবন ও তার আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষভাবে উৎস ধ্বংস কার্যক্রম, এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিতকরণ ও লার্ভা নিধন অভিযান পরিচালিত হবে।
এই কর্মযজ্ঞে সহায়তার জন্য পার্শ্ববর্তী তিনটি অঞ্চল থেকে নির্দিষ্টসংখ্যক সুপারভাইজার ও মশককর্মীকে সাময়িকভাবে সংসদ ভবন এলাকা ও সংশ্লিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে নিয়োজিত করা হয়েছে। তবে এই বিশেষ দায়িত্বে যুক্ত না হওয়া বাকি কর্মীরা নিজ নিজ এলাকাতেই নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।
শুধু নির্দিষ্ট এলাকাতেই নয়, সিটি করপোরেশনের অন্যান্য সব অঞ্চলেও জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশেষ মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এসব এলাকায় আগে থেকে চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ স্থান, সম্ভাব্য প্রজননস্থল এবং পূর্ববর্তী সময়ে ডেঙ্গু সংক্রমণের হটস্পট হিসেবে পরিচিত জায়গাগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনায় নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এবারের কর্মসূচিতে শুধু সরাসরি মশক নিধনের ওপরই নির্ভর করা হচ্ছে না, বরং প্রজননস্থল খুঁজে বের করে তা স্থায়ীভাবে ধ্বংস করা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী লার্ভা ধ্বংসকারী রাসায়নিক প্রয়োগের মতো উৎসমুখী প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিটি অঞ্চলের সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ওপর নিজ নিজ এলাকার কার্যক্রম তদারকি, সমন্বয় সাধন এবং বাস্তবায়নের সার্বিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে জনবল মোতায়েনের বিষয়টি সরাসরি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং চিহ্নিত প্রজননস্থল সফলভাবে ধ্বংস হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতেও তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মশাবাহিত রোগ মোকাবিলায় শুধু রাসায়নিক প্রয়োগনির্ভর পদ্ধতির বদলে উৎস ধ্বংসের ওপর জোর দেওয়ার এই কৌশলগত পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে অধিক কার্যকর হতে পারে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করেন। তবে এত বড় পরিসরের একটি কার্যক্রম কতটা সফল হবে, তা মূলত নির্ভর করবে দীর্ঘমেয়াদে এই উদ্যোগ অব্যাহত রাখা যায় কিনা তার ওপর। একদিনের বিশেষ অভিযানের প্রভাব সীমিত সময়ের জন্য দৃশ্যমান হলেও, নিয়মিত তদারকি ও নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী ফল পাওয়া কঠিন বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। বিশেষত বর্ষা-পরবর্তী সময়ে ঘরবাড়ি ও নির্মাণাধীন স্থাপনায় জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণে নাগরিক সচেতনতা তৈরি করা গেলেই এই কর্মসূচির প্রকৃত সুফল দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

