ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে আজ শনিবার থেকে সারা দেশে শুরু হয়েছে তিন মাসব্যাপী ‘জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’। জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ অভিযানের উদ্বোধন করেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ অভিযানে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও বেসরকারি সংস্থাও যুক্ত হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা, ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংস, জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং অন্যান্য প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এ কর্মসূচিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রত্যাশীর ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যালায়েন্স (ওয়াইভিএ)–এর স্বেচ্ছাসেবকেরাও অংশ নিচ্ছেন। রাজধানী ঢাকায় ওয়াইভিএর ৫০০ জন নগর স্বেচ্ছাসেবক বিভিন্ন এলাকায় মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। পাশাপাশি দেশের কয়েকটি জেলায় প্রত্যাশীর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরাও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় ওয়াইভিএর স্বেচ্ছাসেবকেরা ডেঙ্গুর প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ, আবর্জনা পরিষ্কার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করার মতো কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস বা ‘সোর্স রিডাকশন’কে কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান দিক হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যাশী জানিয়েছে, জাতীয় এ অভিযানে স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যক্রম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও পরামর্শ অনুযায়ী পরিচালিত হবে। মাঠপর্যায়ে সিটি করপোরেশন, স্থানীয় প্রশাসন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন স্বেচ্ছাসেবকেরা।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী বক্তব্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ, তরুণ, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। দেশব্যাপী চলমান এ অভিযানে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সম্পৃক্ততার মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমকে আরও জনসম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যাশীর ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যালায়েন্স দীর্ঘদিন ধরে দুর্যোগ প্রস্তুতি, জরুরি সাড়া, জনসচেতনতা, পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমে তরুণদের সম্পৃক্ত করে আসছে। জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে তাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সেই স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ককে জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে কাজে লাগানো হচ্ছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশক নিধন নয়, বরং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনগণের সচেতন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ লক্ষ্যেই আগামী তিন মাস দেশব্যাপী বিভিন্ন পর্যায়ে চলবে এ অভিযান।
১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া জাতীয় এ অভিযান চলবে আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ সময়ে প্রত্যাশীর ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যালায়েন্সের স্বেচ্ছাসেবকেরা ঢাকাসহ নির্ধারিত জেলাগুলোতে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নেবেন।

